স্মরণকালের ইতিহাসে দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ মৃত্যু দেখেছে দেশবাসী। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত গত দুই দিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলায় পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত দুই সেনাকর্মকর্তাসহ ১৩১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে হতাহতদের উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে মানিকছড়িতে পাহাড় ধসে একজন মেজর ও একজন ক্যাপ্টেনসহ ৪ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত ৫ জনকে ঢাকার সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও এক সেনা সদস্য।
নিহতরা হলেন; মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মোহাম্মদ শাহিন আলম।
তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: শাহ্ কামাল চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন; নিহতের সংখ্যা ১০৪ জন।
এমন প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করতে এবং ভূমিধসের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
সুইডেনের পথে থাকা পথে প্রধানমন্ত্রী পাহাড় ধসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এছাড়াও বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওরায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল পার্বত্য এলকায় যাবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং সচিবও দুর্যোগ কবলিত এলাকা পরির্দশনে যাবেন বলে জানা গেছে।
মো: শাহ্ কামাল জানান, নিহতদের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ৭৫; বান্দরবানে ৬ এবং চট্টগ্রামে ২৩ জন। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ১৩১ বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ৯৮; বান্দরবানে ৬ এবং চট্টগ্রামে ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত দুইদিনে সাড়ে চার হাজার লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া হয়েছে। লোকদেরকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজন যতদিন নিজ আশ্রয়ে ফিরে না যাবেন, ততদিন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া দুর্যোগ কবলিত এলাকায় নতুন করে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ১০টি এবং বান্দরবানে ৮টি।









