চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

করোনাভাইরাস: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অন্যরকম মানবতা

এ,এ,এম হুমায়ুন কবীর by এ,এ,এম হুমায়ুন কবীর
8:54 অপরাহ্ন 24, এপ্রিল 2020
in মতামত
A A
বাংলাদেশে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা প্রদান. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

করোনাভাইরাসের আক্রমণ মহামারী রূপ ধারন করে গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ। মৃতের সংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি। এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি কিংবা নেই কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে বিশ্বজুড়ে ৭০টিরও বেশি সম্ভাব্য টিকা নিয়ে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। অতি শীঘ্রই মানব দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। উন্নত বিশ্বের আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, জার্মানী, ফ্রান্স কিংবা যুক্তরাজ্যের মত উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও হার মানিয়ে করোনা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গন সহ সকল সেক্টরে। একদিকে মানুষকে বাঁচানো, অন্য দিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে চীনের উহানে প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় করোনা ভাইরাসের। এ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে থাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, এশিয়া, পাক-ভারত উপমহাদেশ কেউ রক্ষা পায়নি করোনার ভয়াল থাবা থেকে। ইতোমধ্যে এর বিষাক্ত ছোবলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র সহ আরো অনেক উন্নত দেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনে প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও চীন করোনা ভাইরাসকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলেই মনে হচ্ছে। কিন্ত অপর উন্নত দেশ জাপান, ইরান যুদ্ধ করে হিমশিম খাচ্ছে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। এর শেষ কোথায়! বিজ্ঞানী, গবেষক কিংবা চিকিৎসক কেউ দিতে পারে না সদুত্তর।

পাক-ভারত উপমহাদেশে থেমে নাই করোনা ভাইরাসের নিরব আক্রমন। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে শুরু করেছে তার নির্মম প্রানঘাতী প্রলয়। ৮মার্চ বাংলাদেশে মানবদেহে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমন ধরা পড়ে আইইডিসিআর এর তথ্য মতে। ক্রমেই আক্রমণ এবং প্রাণহরণের হার বেড়ে চলছে। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। আইসোলেশনেও রাখা হয়েছে অনেক মানুষকে। সরকারের যথাযথ ও দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ হিসাবে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে অনেক শহর, জেলা, উপজেলা, গ্রাম, পাড়া-মহল্লা কিংবা বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বন্ধ করতে।

সরাসরি করোনা মোকাবেলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাদে অন্যান্যদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দিয়ে সরকারী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ৫ মে পর্যন্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, গার্মেন্টস বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র  ওষুধ ব্যতীত সকল দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ সন্ধ্যা ছয়টার পর। সকল সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জনসমাগম নিষিদ্ধ। ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এসেছে নির্দেশনা। এসবই করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব তথা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য।

সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। মানুষকে ঘরে রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর নির্দেশনায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন সবার কার্যক্রমকে। নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ/সংস্থাকে যেকোন মূল্যে মানুষকে ঘরে রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করছেন ও নির্দেশনা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে। দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ দীর্ঘ দিন ঘরে কর্মহীন থাকায় তাদের খাদ্যাভাব যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ত্রান সামগ্রী ও শিশু খাদ্য বিতরনের ব্যবস্থা করতে দিয়েছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা ।

চট্টগ্রামে পুলিশ করোনা পরীক্ষার জন্য তাপমাত্রা পরিমাপ করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ প্রায় ১৭কোটি মানুষের নেত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের একটি মানুষকেও বিনা চিকিৎসায় ও না খেয়ে মরতে দিবেন না মর্মে সকল ব্যবস্থা সুচারুভাবে করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নানা অর্থনৈতিক প্রণোদনাও ঘোষণা করেছেন। সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবেলা করে ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিচ্ছেন বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফল নেতৃত্বে, সকল ক্ষেত্রে তাঁর সুষ্পষ্ট ও কার্যকরী যথাযথ পদক্ষেপ ও দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে সম্মান জানিয়ে ঘরে থাকবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে করোনা ভাইরাসকে হার মানাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

ইতোমধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করে এবং সরকারের সঠিক সময়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে ইউরোপের মাল্টা এবং সাইপ্রাস করোনা ভাইরাসের প্রভাব নিয়ন্ত্রনে এনেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়।

করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ “মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এই শ্লোগানকে বুকে ধারন করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশ পুলিশ যে ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, ২০১৩-২০১৪ সালে বিএনপি-জামাতের অগ্নি-সন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞকে নিজের জীবন দিয়ে যেভাবে দমন করেছে, করোনা যুদ্ধেও তারা থেমে থাকেনি।

নিজের জীবন ও পরিবারের সদস্যরা সংক্রমিত হতে পারে যেকোন সময়। এই নিশ্চিত শংকা মনে রেখেই মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য আজ নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি মেট্রোপলিটন শহর, জেলাশহর, থানা এলাকা, ওয়ার্ড কিংবা গ্রাম ও পাড়া-মহল্লার প্রতিটি অলি-গলিতে বাংলাদেশ পুলিশের অকুতোভয় সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। যেকোন মূল্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে মাইকিং করে মানুষকে ঘরে থাকার বিষয়ে সচেতন করা, মাস্ক বিতরন করার মত কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। জীবন বাজি রেখে রাত-দিন মাঠে থেকে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা। ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ পুলিশ বল প্রয়োগের পরিবর্তে বেছে নিয়েছে নানা কৌশল যাতে মানুষের মন জয় করা যায় এবং মানুষ আপনচিত্তে ঘরে থাকে নিশ্চিন্তে।

কোন শহর, এলাকা, প্রতিষ্ঠান বিংবা বাড়ি লকডাউন ঘোষিত হলে তা নিশ্চিত করা, বিদেশ ফেরত কিংবা অন্যভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষকে ঘরে থাকা নিশ্চিত করা, আইসোলেশন নিশ্চিত করা, অসুস্থ্য ব্যক্তিকে হাসপাতালে প্রেরণ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে আনা-নেয়া, চিকিৎসক ও চিকিৎসার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে বাসস্থান হতে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো, অসুস্থ্য ব্যক্তিকে হাসপাতালে ঔষুধ ও খাবার সামগ্রী পৌঁছানো, ত্রাণ বিতরন, নিজস্ব উদ্যোগে টেলিমেডিসিন সেবা, করোনা আক্রান্তে মৃত ব্যক্তির লাশ পরিবহন ও যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করছে বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্যরা। বাংলাদেশ পুলিশের সেবা হটলাইন ৯৯৯ এ ফোন করে এ দুর্যোগ মূহুর্তে মানুষ পেয়ে যাচ্ছে তার কাঙ্খিত সেবা।

এছাড়াও ঘরে থাকা কর্মহীন দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে রাতের অন্ধকারে দরজায় নক করে নিজ বেতনের টাকায় কেনা খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। ভ্রাম্যমান “ডোর টু ডোর শপ” এর মাধ্যমে কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনে থাকা মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও খাদ্যসামগ্রী। জরুরী হটলাইনে ফোন করলেই পৌঁছে দিচ্ছে ঔষুধ। কখনো ভিটামিন “সি” যুক্ত ফল কমলা-মালটার ভালবাসার ঝুড়ি পাঠাচ্ছেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষের বাসায়-বাসায়। এতকিছুর লক্ষ্য একটাই। মানুষ ঘরে থাকুক, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হউক, মানুষ সুস্থ্য থাকুক।

এটুকুতে বাংলাদেশ পুলিশ থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্যরা রাস্তায়-রাস্তায় উৎসাহমুলক গান গেয়ে গেয়ে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করছেন ঘরে থাকতে। মাননীয় আইজিপি এর উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য তাদের একদিনের বেতন এবং এএসপি তদূর্ধ কর্মকর্তাগন একদিনের বেতন সহ বৈশাখী ভাতার সমুদয় অর্থ সহযোগে ২০ কোটি টাকা করোনা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন।

প্রতিটি দূর্যোগ, সংকট এ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা জীবন বাজি রেখে তাদের সর্বস্ব দিয়ে এগিয়ে আসেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া, মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবীয় পুলিশ এমনটাই হবে সেটাই জনগনের প্রত্যাশা।

লাঠির বদলে উপহার সামগ্রী, জরিমানার বদলে মাইক, কঠোরতার বদলে কাউন্সিলিং কিংবা নেচে গেয়ে মানুষের মন জয় করে মানুষকে ঘরে রেখে জীবন বাঁচানোর দাওয়াই-এ যেন অন্যরকম এক পুলিশিং ব্যবস্থাপত্র। বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়া এরকম পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়েই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ করোনা যুদ্ধে সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় করোনা ভাইরাসের আক্রমণাত্মক তাণ্ডব মোকাবিলায় প্রায় সাত হাজার ফোর্সের পুলিশ বাহিনীর কাপ্তান হলেন মাননীয় পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বিপিএম,পিপিএম। সহযোদ্ধা হিসাবে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনজন সম্মানিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সহ চারটি অপরাধ বিভাগ, ২টি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ, ২টি ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ১৬টি থানার অফিসার ইনচার্জ বৃন্দ। কর্মী হিসাবে কাজ করছেন প্রায় ৭০০০ হাজার জনবলের অসংখ্য টিম।

এ মুহুর্তে মাননীয় পুলিশ কমিশনারের একটি ব্রত মহানগরের মানুষকে নিশ্চিন্তে ঘরে রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, মানুষকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন হতে মুক্ত রাখা।

চট্টগ্রাম শহরে পুলিশ সদস্যরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ প্রায় ৭০ লক্ষাধিক বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের বসবাস চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায়। এত বিশাল সংখ্যার জনগনকে ঘরে রেখে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাননীয় পুলিশ কমিশনার বল প্রয়োগ না করে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে অহঃর্নিশি কাজ করে যাচ্ছেন। নির্ঘুম থাকছেন রাতের পর রাত। মহানগরবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা যেন অন্যরকম এক মানবিক পুলিশের উদাহরন।

করোনার ভয়াবহ রূপ আঁচ করতে পেরে মাননীয় পুলিশ কমিশনার বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পট পতেঙ্গায় জনসমাগম নিষিদ্ধ করেন। বন্ধ রয়েছে ফয়েজ লেক সহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলি। হোটেল, মোটেল, ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারের সকল কার্যক্রম স্থগিত। এরপর ধীরে ধীরে পুরো মহানগর এলাকা লকডাউন করে দেন। বন্ধ করে দেন মহানগরে প্রবেশ-বাহিরের সকল পথ। মহানগরের প্রবেশমুখে স্থাপন করেন পুলিশ চেকপোষ্ট। এ ক্ষেত্রে মাননীয় পুলিশ কমিশনার শূন্য সহিষ্ণু নীতি অবলম্বন করতে সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন। শুধুমাত্র সরকার ঘোষিত জরুরী পণ্য-দ্রব্য ছাড়া অন্য সকল যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে কিংবা শহরের বাহিরে যেতে পারেনা।

একইভাবে কর্ণফুলী নদীতে নৌযান চলাচলে নিয়ন্ত্রন আরোপ করা হয়েছে। জরুরী সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি,ঔষুধ, খাদ্যদ্রব্য পরিবহনকারী নৌযান ব্যতীত অন্যান্য নৌযান যাতে যাত্রী পরিবহন করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচেষ্টায় বিঘ্ন না ঘটায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা সহ তদারকি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক ঔষুধ ব্যতীত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, কাঁচাবাজার কিংবা জরুরী পণ্যের দোকান কিংবা ব্যবসা কেন্দ্রগুলো নির্দিষ্ট সময়ে খুলে নির্ধারিত সময়ে বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সামাজিক দূরত্ব সুনিশ্চিত করতে কাঁচাবাজার কিংবা দোকানের সামনে রং দিয়ে সুনির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থানের চিহ্ন অংকন করেছেন পুলিশ সদস্যরা। আবার কখনো দোকানের সামনে রশি দিয়ে সুনির্দিষ্ট দূরত্ব রেখা নির্ধারন করে দিচ্ছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাগন মাস্ক ব্যবহার করছেন কিনা তা নিয়মিতভাবে তদারকি করছেন সংশ্লিস্ট পুলিশ সদস্যরা।

চট্টগ্রামে ট্রাফিক নিয়ম মানতে ট্রাফিক পুলিশ ও চালকরা আলোচনা করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ খোলা মাঠে কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীর দোকান বসিয়ে জনগনের সুবিধা নিশ্চিত করার মত কাজ করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগরের দক্ষিন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগে ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে সুবিশাল পরিসরে কাঁচাবাজার স্থাপন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে দোকান বসিয়ে একমুখী চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে এ কাঁচাবাজারে। প্রবেশমুখী হাত ধোঁয়ার জন্য রয়েছে সাবান পানির ব্যবস্থা। নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করার নিমিত্তে অংকন করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট বৃত্ত। করোনা ভাইরাস বিস্তার ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে কাঁচাবাজার স্থাপনের এই ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮০টি মোবাইল টিম ২৪ ঘন্টা মাঠে থাকছে। এছাড়াও থাকছে ফুট পেট্রোল। ট্রাফিক বিভাগ সহ প্রতিটি থানা হতে ৪/৬টি হোন্ডা মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক টহল দিচ্ছে প্রতিটি অলি-গলি, পাড়া-মহল্লায়। বিট পুলিশিং অফিসাররা কাজ করছেন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়। এছাড়া প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ, চারটি অপরাধ বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তাগন সার্বক্ষনিক মাঠে থেকে লকডাউনের সকল কর্মকাণ্ড মনিটর করছেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনাররা রাস্তায় বেরিয়ে নিজেই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন মানুষের ঘরে রাখার বিষয়টি। মাননীয় পুলিশ কমিশনার রাত-দিন ছুটে চলেছেন মানুষকে ঘরে রাখতে উৎসাহ প্রদান করতে।

চায়ের দোকানে আড্ডা, কোন স্থানে মানুষের জটলা কিংবা অযথা চলাচল দেখলেই করোনার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করছেন সিএমপি’র মানবিক পুলিশ সদস্যরা। মাইকিং এর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করছেন। মসজিদের ইমামদের সংশ্লিষ্ট করে মাইকিং এর ব্যবস্থা করছেন মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানাতে। মসজিদের সামনে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মানুষকে ঘরে ফিরতে উৎসাহ দিচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা। কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্যরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন মানুষকে ঘরে রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় পুলিশ কমিশনার যে কোন সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। শরীরের এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত তিনি জনগনের পাশে থাকবেন তার প্রতিটি সদস্য নিয়ে। ঘরে থাকা মহানগরবাসীর যেকোন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিএমপি’র দুটি হট লাইন চালু করা হয়। হট লাইনের ০১৪০০-৪০০৪০০ এবং ০১৮৮০-৮০৮০৮০ নম্বরে ফোন করলে যেকোন জরুরী সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে মহানগরবাসীর দরজায়।

এছাড়া সিএমপি’র সিনিয়র কর্মকর্তাদের, চারটি অপরাধ বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তাদের, প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জের মোবাইল নম্বর, থানার ডিউটি অফিসারদের মোবাইল নম্বর এবং সিএমপি কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর মহানগরের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা সহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, ফেসবুক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে যাতে মহানগরবাসী ঘরে বসেই যেকোন জরুরী সেবা চেয়ে যোগাযোগ করতে পারে পুলিশের সাথে।

চট্টগ্রাম বাজারে মানুষের ভিড় ও সবজি বিক্রেতা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশ ফেরত কিংবা নেটিজেনদের বাসায় বাসায় ভিটামিন সি যুক্ত কমলা-মাল্টা ফলের “ভালবাসার ঝুড়ি” পাঠিয়ে নগরবাসীকে ঘরে থাকার উৎসাহ প্রদানের এক অনবদ্য উদাহরন সৃষ্টি করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় পুলিশ কমিশনার। এটি কোয়ারেন্টাইনে থাকা নগরবাসীকে অন্য রকম মানসিক শক্তি যোগাবে।

শুধু কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিই নয় বরং সমগ্র মহানগরবাসী মানসিকভাবে দৃঢ়চিত্তে শরিক হয়েছে করোনাযুদ্ধে। কেয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করা প্রতিটি ব্যক্তির কাছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেয়া হয়েছে সনদপত্র। এই সনদপত্র হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছে প্রত্যেকে। ক্ষণিকের জন্য হলেও সনদ প্রাপ্তির অনুভূতি গভীর। অনেকে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, চোখের পানি ফেলেছেন আড়ালে। মুহুর্তেই বদলে গিয়েছে পুলিশ সর্ম্পকে তার পূর্বের নেতিবাচক ধারণা।

সেবার আর একটি উজ্জ্বল ও কার্যকরী দৃষ্টান্ত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর ভ্রাম্যমান দোকান। মাননীয় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানা “ডোর টু ডোর শপ” নামে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য-সামগ্রীর ভ্রাম্যমান দোকান চালু করে ঘরবন্দী মহানগরবাসীর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর চাহিদা পূরণ করছেন।

সিএমপি’র হট নম্বর কিংবা কোতয়ালী থানার নম্বরে ফোন দিলেই বাজার-সদাই পৌঁছে যাচ্ছে ঘরবন্দী মানুষের দরজায়। শুধু এতেই থেমে নাই, ফোন করলে মিলছে জীবন রক্ষাকারী জরুরী ঔষুধ পন্য। এছাড়াও “স্টে হোম” কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে সিএমপি’র প্রতিটি অপরাধ বিভাগ ও থানায় চালু রয়েছে বিশেষ ‘‘হোম সার্ভিস’’ এর ব্যবস্থা। এই সার্ভিস এর সুফল দিতে চালানো হয়েছে ব্যাপক প্রচারণা। জরুরী প্রয়োজনে ফোন করলেই মিলছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ঔষুধ। এ সেবা পেয়ে মহানগরবাসী অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের করোনা যুদ্ধ মোকাবিলায় অন্যতম একটি উদ্যোগ “করোনা ভাইরাস রেসপন্স টিম” গঠন করা। মহানগর এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ ও জনসাধারনকে জরুরী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সিনিয়র একজন পুলিশ কর্মকর্তার নের্তৃত্বে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে “করোনা ভাইরাস রেসপন্স টিম”। ২টি এ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সহ সার্বক্ষনিক প্রস্তুত থেকে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংবাদ পেলে তাৎক্ষনিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সহ আইসোলেশন কিংবা হাসপাতালে প্রেরনের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে এ টিমের মানবিক সদস্যরা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা মানবিকভাবে হাঁটছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ করোনা ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে মহানগরবাসীকে নিশ্চিন্তে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করতে মাননীয় পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়, আক্রান্ত হলে করোনীয় বা বর্জনীয় সর্ম্পকে বিভিন্ন জনসচেতনতামুলক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এগুলো করে মানুষের মন থেকে করোনা ভীতি দূর করে মহানগরবাসীকে স্বস্তি দেবার চেষ্টা করছেন।

ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে কেউ করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব না ছড়াতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সিএমপি’র সাইবার ক্রাইম রেসপন্স টিম। যেকোন মূল্যে গুজব প্রতিহত করে মহানগরবাসীর করোনা সর্ম্পকে বিভ্রান্তি দূর করতে সার্বক্ষনিক ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটর করছে সাইবার ক্রাইম রেসপন্স টিম।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের অপর একটি সর্বাধুনিক ডিজিটাল উদ্যোগ হলো নিরাপদ স্টে সেফ (নিরাপদ) নামের একটি অ্যাপস চালু করা। এই অ্যাপস এর মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে উক্ত ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সর্তক করা হয় এবং তাৎক্ষনিকভাবে মাহনগরের ১৬টি থানায় ওয়েব ভিত্তিক এ্যাডমিন প্যানেলের মাধ্যমে মনিটরিং ইউনিটে তথ্য আসার ফলে কোয়ারেন্টাইন ভঙ্গ করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে মহানগর এলাকায় কোয়ারেন্টাইন যথাযথভাবে নিশ্চিত হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা মহানগরবাসী ঘরে থাকার বিষয়ে সচেতন হচ্ছে। ফলে নিশ্চিত হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব।

মহানগরে যেকোন ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। এমন অবস্থায় অসুস্থ্য ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা। মধ্যরাতে ফোন পেয়ে প্রসূতি মহিলাকে পুলিশের নিজ গাড়িতে হাসপাতালে পৌঁছিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুনরায় নবজাতক সহ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। বিবেকহীন কোন দম্পত্তির ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা নবজাতককে উদ্ধার করে পুনরায় নবজীবন দিচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গর্বিত সদস্যরা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী-পুত্র কিংবা নিকট স্বজনেরা যখন কাউকে ত্যাগ করছেন, সিএমপি’র মানবিক পুলিশ তখন তাকে বুকে আগলে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন, ফিরিয়ে দিচ্ছেন নবজীবন। এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না মানবিক পুলিশ সদস্যরা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্তে নিয়মিত খোঁজ-খবর, চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন এবং রোগীর ঔষুধ ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন নিজ উদ্যোগে। সাথে পাঠাচ্ছেন উপহার সামগ্রীও। গরম পানি করার ইলেকট্রিক কেটলিও হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত রোগীকে পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে সাহস ও উৎসাহ যোগিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা করার মহৎ চেষ্টাও করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা। এ এক অন্যরকম মানবতা। জয় হবেই এ মানবতার।

করোনা ভাইরাসের আতংক বিরাজ করায় অনেকে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন না কিংবা সহজেই ডাক্তার দেখাতে পারছেন না। আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারনে মানুষের সামান্য জ্বর, সর্দি হলেও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আতঙ্ক দূর করতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের পরামর্শে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা চালু করেছে কোতোয়ালি থানা। মহানগরবাসী হট নম্বরে অথবা থানার নম্বরে ফোন দিয়ে পেয়ে যাচ্ছেন কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা।

চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও ল্যাব টেকনিশিয়ানদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে সিএমপির নিজ উদ্যোগে। তাদের ফোন পেয়ে কর্মস্থলে আনা-নেয়া করা হচ্ছে পুলিশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। এ মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরী সার্ভিস হলো চিকিৎসা। এ বিষয়টি অনুধাবন করে চিকিৎসা সেবায় যাতে বিন্দুমাত্রও ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মাননীয় কমিশনার সদা সেবা নিশ্চিত করতে তৎপর।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেন্স(বিআইটিআইডি) এ কর্মরত ডাক্তার ও  স্বাস্থ্য কর্মীদের যাতায়াতের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উদ্যোগে ২টি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহানগরে বসবাসরত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ে বিআইটিআইডি-তে আনা-নেয়া করা হচ্ছে বাস সার্ভিসের মাধ্যমে। সর্বাগ্রে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এ এক অন্যরকম নৈতিকতা।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানেও এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনার। করোনা চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ। এছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে সার্বক্ষনিক। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য সম্মানিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিবা-রাত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। এমত অবস্থায় কিছু অসাধু বাড়িওয়ালা তাদের বাসাভাড়া দিতে চাচ্ছেনা কিংবা বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এহেন অনৈতিক মানসিকতার বাড়িওয়ালাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বদা সচেতন রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরের মাননীয় পুলিশ কমিশনার। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সহযোগিতার দ্বার সর্বদাই উন্মোচিত চট্টগ্রাম মহানগরের মানবিক পুলিশের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া, মজুদদারদের কার্যক্রমকে সর্বদা মনিটর করছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের দাম যাতে স্থিতিশীল থাকে, সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সাথে বিভিন্ন সময়ে ফলপ্রসু আলোচনা সহ বাজার মনিটরিং করছেন বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কমকর্তারা। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপন্য বেআইনিভাবে মজুদ করে যাতে চাহিদার সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার। দ্রব্যমূল্যের দাম স্থিতিশীল রেখে ঘরে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে একধরনের নির্ভাবনার প্রশান্তি জাগাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা সর্ব চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সরকারী ত্রাণ যাতে অসাধু ব্যক্তিরা চুরি করতে না পারে, সে বিষয়েও রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা।

করোনা ভাইরাসের আক্রমন প্রতিহত করতে নিজ উদ্যোগে সারা বাংলাদেশে সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় জলকামানের মাধ্যমে জীবানুনাশক স্প্রে ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহন করেন মাননীয় পুলিশ কমিশনার। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত জীবানুনাশক স্প্রে করে মাহনগরবাসীকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কবল থেকে রক্ষা করতে মাননীয় পুলিশ কমিশনারের এ উদ্যোগ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের হিসাব রাখছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তি কিংবা লকডাউন ঘোষিত বাড়ির প্রত্যেক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার বিষয়টি সুচারুভাবে করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। এত বিশাল জনসংখ্যার মহানগরীতে কাজটি অত্যন্ত দূরহ হলেও কোনভাবেই শিথিলতা প্রদর্শন করা হচ্ছেনা। এত কিছুর উদ্দেশ্য একটাই, মহানগরবাসী ঘরে থাকবে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে, ঠেকানো যাবে মরনঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় পুলিশ কমিশনারের সাহচার্যে বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভাল কাজের এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। করোনা ভাইরাসে নিজেদের সংক্রমণের আশঙ্কাকে হার মানিয়েছে এ মানবিক প্রতিযোগিতা। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা উৎসাহ উদ্দীপনামূলক গান গেয়ে গেয়ে মহানগরবাসীকে ঘরে থাকার আহবান জানাচ্ছেন। এটি অন্যরকম এক প্রচারনা। প্রতিটি মানুষ গান পছন্দ করে। তাই কৌশল হিসাবে এটি মন্দ না। মানুষ গান শুনছেন, উৎসাহিত হচ্ছেন, ঘরে থাকছেন। পাশাপাশি উৎসাহমূলক গান ফেসবুক, ইউটিউব এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা। নগরবাসী স্বতঃস্ফুর্ত সাড়া দিয়ে ঘরে থাকছেন গান শুনে শুনে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এ উদ্যোগ অবশ্য প্রশংসনীয়। দেশের এই সংকটকালে এ উদ্যোগ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে সাধারন মানুষের মাঝে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যের মানবিক সহায়তা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ মহানগরবাসীর অযথা চলাচল, আড্ডা কিংবা অহেতুক জমায়েত ঠেকানোর জন্য সিএমপি’র কোতোয়ালী থানা অভিনব পদ্ধতি হিসাবে ড্রোন ব্যবহার করেছে। ড্রোন উড়িয়ে আড্ডাস্থলে ছবি তুলে ব্যবস্থা নিচ্ছেন দ্রুত। মানুষ ড্রোন দেখে দ্রুত ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। এটিও কাজে দিয়েছে। সিএমপির এত উদ্যোগ, সেতো মহানগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করার জন্যই।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশী বেগ পেতে হচ্ছে যুবকদের ঘরে রাখতে। এদের মন যেন ঘরে রয় না। রাস্তায়, পাড়া-মহল্লায় বাইরে থাকা অধিকাংশই যুবক শ্রেনীর। পুলিশের টহলরত গাড়ি দেখলেই তারা দৌঁড়ে বাড়িতে ঢুকে যায়। গাড়ি চলে গেলে আবার রাস্তায় নামে। এদের ঠেকাতে টহল পার্টির ইনচার্জ কিংবা কর্তব্যরত সিনিয়র কর্মকর্তারা তাদের ফোন থেকে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে নানাভাবে বুঝিয়ে ঘরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। পুলিশের এত সব কিছু কার জন্য? মহানগরবাসী আপনাদের জন্য। পুলিশকে সহয়তা করুন, ঘরে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

চারদিকে শুধুই শঙ্কা। স্বাভাবিক মৃত্যুও যেন করোনা আতঙ্কে আচ্ছাদিত। মানুষ কোন লাশের ধারের কাছেও ভিড়ছেনা। মহানগরের বিভিন্ন স্থানে বিগত কয়েকদিনে কয়েকটি লাশ পাওয়া গেলে কোনভাবেই সাধারন মানুষ বিংবা অন্য কোন সংস্থা এগিয়ে আসেনি। রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর প্রাণহীন দেহের একমাত্র সহায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা। নিজের জীবনের মায়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক পুলিশ সদস্যরা সে সব লাশের কাছে যাচ্ছেন, মৃত্যুর কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন। লাশের ওয়ারিশ বের করা এবং শেষ পর্যন্ত যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় লাশ দাফনের কাজটিও করছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অকুতোভয় সদস্যরা। মাননীয় পুলিশ কমিশনারের প্রস্তুতিও সেরকম। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির যথাযথ মর্যাদায় দাফন ও কবরস্থ করার জন্য সিএমপি’র টিমকে তিনি রেখেছেন সদা প্রস্তুত। জয় হোক মানবতার, জয় হোক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের।

এবার আসা যাক জীবন রক্ষায় আর একটি মানবিক উপাখ্যানের কথায়। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় দরিদ্র, নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সংখ্যা কম নয়। দীর্ঘদিন এসব দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ ঘরে থাকায় আয়রোজগারের পথ বন্ধ। ঘরের শেষ সম্বলটুকু শেষ হয়ে এসেছে। আগামীকাল সে কি খাবে, কি দিবে তার সন্তানের মুখে! এমন শংকা যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, ঠিক সে মুহুর্তে মাননীয় পুলিশ কমিশনার উদ্যোগ নিলেন পুলিশ সদস্যদের নিজেদের বেতনের টাকা দিয়ে তাদের মুখে আহার তুলে দিবেন। মাননীয় পুলিশ কমিশনারের এ উদ্যোগে বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভালকাজের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। অপরাধ বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগ সহ থানার অফিসার ইনচার্জরা ঝাঁপিয়ে পড়লেন দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তদের মুখে খাবার তুলে দিতে। মহানগরবাসীদের যেন কেউ না খেয়ে থাকে সে জন্য নিজেদের বেতনের অর্থ দিয়ে শুরু করলেন রাতের অন্ধকারে প্রকৃত দরিদ্র খুঁজে খুঁজে তালিকা তৈরি করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। হাজার হাজার দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্তদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য-সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তারা। মহনগরের অভাবগ্রস্থ মানুষ যাতে ঘরে বসেই খাদ্য-সামগ্রী পায় সেটা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তারা রাতের অন্ধকারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী দিয়ে আসছেন। কোনভাবেই রাস্তাঘাটে কিংবা দিনের বেলায় ত্রাণ দিচ্ছেন না। কারণ, মানুষ ঘরের বাইরে চলে আসতে পারে। ফেসবুক ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর কিংবা হটলাইনে মধ্যবিত্ত পরিবারের যোগাযোগ হলে তাদের সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে রাতের অন্ধকারে গোপনীয়তা রক্ষা করে খাদ্যসামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এরূপ মানবিকতা সবার জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে। পুলিশ শুধু জনগনের বন্ধুই নয় বরং এর চেয়েও বেশী কিছু মহানগরবাসী সেটার প্রমান পেল। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিকতার এরকম উচ্ছ্বাস থেমে যাবে না। যতদিন করোনা ভাইরাস তান্ডব চালিয়ে যাবে, মহানগর এলাকায় দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে রাতের অন্ধকারে খাদ্য-সামগ্রী পৌঁছে যাবে এটাই মাননীয় পুলিশ কমিশনারের ব্রত। চট্টগ্রাম মহানগরের দরিদ্র অসহায় মানুষ খাদ্যাভাবে মরবে না, এটাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি মানবিক সদস্যের পণ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগে মহানগরের কিছু হৃদয়বান, বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছেন। তারা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পত্র-পত্রিকা কিংবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এহেন কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে। দেশবাসীর কাছে প্রমাণিত হয়েছে এক অন্যরকম মানবিক পুলিশিং। পুলিশের উপর জনগনের আস্থা বেড়েছে বহুগুন।

প্রশ্ন উঠতে পারে, পুলিশ নিজেই কতটা নিরাপদ?

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক সদস্যরা করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্ট লাইনে কাজ করায় রয়েছে সংক্রমনের মারাত্মক ঝুঁকি। এ কথাটি সত্য। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৬০ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৫০জন। এই সংকটকালে জনগনকে সেবা দিতে হলে পুলিশকে সুস্থ্য থেকে কাজ করতে হবে। মহানগর এলাকার জনগনকে করোনা ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে হলে সিএমপি’র পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ থাকতে হবে সর্বাগ্রে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি স্থাপনা, অফিস, থানা-ফাঁড়ির প্রবেশমুখেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ সদস্য কিংবা সেবা প্রত্যাশী যেকোন ব্যক্তি থানায় কিংবা পুলিশ অফিসে প্রবেশ করলেই হাত ধোয়ার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার দ্বারা দুহাত জীবানুমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যারাক নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার কিংবা জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করা হচ্ছে। মেস কিংবা ডাইনিং এ নেয়া হয়েছে বাড়তি পরিচ্ছন্নতা। একই প্লেটে খাওয়া কিংবা একই গ্লাসে একাধিক ফোর্সের পানি পান করার বিষয়টিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যারাকে পুলিশ সদস্যরা যাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে অবস্থান করে সে বিষয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়মিত বিফ্রিং প্রদান সহ কঠোরভাবে তদারকি করেন। বারবার পর্যাপ্ত পানি পান করে হাইড্রেটেড থাকা সহ দিনে ৩/৪বার গরম পানি/চা পানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ব্যারাকের মেস বা ডাইনিং-এ। আবাসিক পরিদর্শকগন সার্বক্ষনিক এ বিষয়গুলো তদারকি করেন।

মাননীয় পুলিশ কমিশনার নিজস্ব উদ্যোগে সিএমপি’র প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে মাস্ক দিয়েছেন। ফোর্সকে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া যে সকল সিনিয়র কর্মকর্তা ও ফোর্স করোনা মোকাবেলায় ফ্রন্ট লাইনে থেকে সরাসরি কাজ করছেন, তাদের জন্য মাননীয় পুলিশ কমিশনার সুরক্ষা পিপিই সরবরাহ করেছেন। বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে সংক্রমিত পুলিশ সদস্যের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে। এছাড়াও ভবিষ্যৎ চিন্তা করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আইসোলেশন কেন্দ্র। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত পুরস্কার সহ ভাল কাজে উৎসাহ প্রদান করেন মাননীয় পুলিশ কমিশনার। তার ক্যারিশম্যাটিক লিডারশীপের কারনেই আজ সিএমপি’র প্রত্যেকটি পুলিশ সদস্য যেন এক একজন করোনা সৈনিক। তার সুযোগ্য নের্তৃত্বের কারনেই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের শংকা আছে জেনেও মহানগরবাসীর সেবায় করোনা প্রতিরোধযুদ্ধ আত্মনিয়োগ করেছে প্রত্যেক পুলিশ হাসিমুখে, নির্ভিকচিত্তে।

দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহ শত কাজের বাইরে করোনাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ যে ভূমিকা রাখছে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যুগে যুগে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমনের শংকাকে উপেক্ষা করে যেভাবে প্রতিটি পুলিশ সদস্য মহানগর বাসীর সুরক্ষায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে, তা চট্টগ্রাম মহানগরবাসী তথা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে চিরদিন। পুলিশ তার দায়িত্বের চেয়েও বেশী কিছু করে যাচ্ছে শুধুই মহানগরবাসীকে নিশ্চিন্তে নিরাপদে ঘরে রেখে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর দায়িত্ব পুলিশের এই মানবিক প্রচেষ্টাকে সম্মান দেখিয়ে ঘরে থাকা, নিরাপদ থাকা। একদিন আলো আসবেই, আবার আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবো, বন্দি জীবনের অবসান ঘটবে। এগিয়ে যাবো স্বাস্থ্যকর জাতি বিনির্মানে নতুন উদ্যোমে। জয় হবে মানবতার।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Tags: করোনাভাইরাস
Previous Post

গণপরিবহন ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে

Next Post

যে কারণে হলিউডের ছবিতে ঢাকা শহরের গল্প

Next Post
ঢাকা শহরে সংঘর্ষ ও ধোঁয়া, সিনেমার দৃশ্য. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

যে কারণে হলিউডের ছবিতে ঢাকা শহরের গল্প

ভারতের বিজেপি নেতা ও ট্রাম্পের সমর্থক, বক্তৃতা দিচ্ছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

করোনা চিকিৎসা: হাজারীর পর এলো ‘ট্রাম্প মেথড‘

সর্বশেষ

জেমসের নতুন গানের পরিবেশনা, মঞ্চে গিটার ও মাইক্রোফোন হাতে শিল্পী. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ঘর ছেড়ে আজিজ বোর্ডিং, সংগীতে আজও অপ্রতিরোধ্য জেমস

অক্টোবর 2, 2026

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে, কোথায়

অক্টোবর 2, 2026
প্রাকৃতিক পরিবেশে মিথিলা সুন্দরভাবে ছবি তুলেছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

মিথিলার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন

অক্টোবর 2, 2026

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজ চলছে: মাহদী আমিন

অক্টোবর 1, 2026

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু কবে, জানাল আইসিসি

অক্টোবর 1, 2026
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT