১৯৭১ সালে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ‘ইসলামি সংহতি’ ও ‘মুসলিম ভ্রাতৃত্ব’ অটুট রাখার অজুহাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। সেই বিরোধীতাকারী অশুভ শক্তি ইসলামের ভুল-ব্যাখ্যা দিয়ে সরল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়। মুক্তিযুদ্ধকে ইসলাম-বিরোধী কাজ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী জনগণকে ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত করে। শান্তির ধর্মের অপব্যাখ্যা করে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী সকল অনৈসলামিক কাজে মেতে ওঠে।
এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মাবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে দেয়া পরিচিতি অংশে লেখা হয়েছে,‘ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের জন্য একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা করাটা ছিলো বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী চিন্তার আরেকটি দৃষ্টান্ত।’
কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যেনো এই সংস্থাকে নিজেদের স্বার্থ কায়েমে ব্যবহার না করতে পারে সেজন্য বিধি-বিধান প্রণয়ন জরুরি ছিলো। এজন্য ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়। এই অ্যাক্ট অনুযায়ী পরিচালিত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্কৃতি, মনন, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিম অবদান সম্পর্কে গবেষণা, সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও ন্যায় বিচার বিষয়ক ইসলামি আদর্শের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৪২ বছর ধরে প্রকৃত ইসলামকে বাংলাদেশের মুসলিমদের কাছে তুলে ধরতে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে মসজিদভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে এই সংস্থা।









