আদালত অবাননা মামলায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দু’জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।
জরিমানা না দিলে ৭ দিনের কারাদণ্ডাদেশও দেয়া হয়েছে।
রোববার সকালে আপিল বিভাগে হাজির হয়ে আদালত অবমাননার রুলের শুনানিতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চাইলে তা খারিজ করে আদালত দুই মন্ত্রীকে এ জরিমানা করেন।
কী বলেছিলেন তারা?
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর মামলায় আপিল বিভাগের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির কিছু মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। গত ৫ মার্চ এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন এই দুই মন্ত্রী।
সেদিন কামরুল ইসলাম ও আ.ক.ম মোজাম্মেল হক যা বলেছিলেন নিচে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘অনেকেই প্রসিকিউশন টিম ও বিচারক নিয়ে আমাদের কথা বলেছেন। আমি বলেছি এখানে যারা আছেন কারোরই অভিজ্ঞতা নেই। ফৌজদারী নিয়ম থেকে বের হতে তাদের কিছু সময় লাগবে কারণ এটি বিশেষ বিচার ব্যবস্থা। এই প্রসিকিউশন ও ইনভেস্টিগেশন টিম ২২টি মামলা নিস্পত্তি করেছে। আজ মীর কাশেম আলীর মামলা নিয়ে যে কথাগুলো আসছে সেরকম কথা কিন্তু অতীতে আসেনি। তাদের সফলতাই আগে দেখতে হবে।’
‘মীর কাশেম আলীর মামলার ক্ষেত্রে পুরো রায়টা আমি পড়েছি। দেশের ১৬ কোটি মানুষ এই মামলার বাদী। রায়ের এক জায়গায় লেখা, অন টোটাল অ্যাডভাইজাল উই ডু নট ফাইন্ড এনিথিং ফ্লট ইন দ্য ইনভেস্টিগেশন টাস্ক। আদালতের (ট্রাইব্যুনালের) এই একটা কথাই যথেষ্ট। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্য আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, প্রসিকিউশন ও ইনভেস্টিগেটিং টিমকে আদালতে দাঁড় করাতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন প্রসিকিউশন এই মামলা নিয়ে রাজনীতি করছেন।’
কামরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘তার প্রকাশ্য আদালতে এমন বক্তব্যে আমি সংক্ষুব্ধ। তার মন্তব্যের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রায় অন্যরকম হবে সেটা বোঝাই যায়। তিনি হয় আসামীকে খালাস দিবেন, রিমান্ডে পাঠাবেন। যদি তা না হয় তাহলে অন্যরা বলবে সরকারের চাপে রায় বদলানো হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এই সংকট প্রধান বিচারপতি সৃষ্টি করেছেন সেটাই সবচেয়ে বড় দুঃখ। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আমরা সরকারের অংশ নই। সত্যিই তিনি সরকারের অংশ নন। সরকার একটি দলীয় বিষয়। আইন সবার জন্যই সবার। নুরেমবার্গে আঠারো দিনে লাখ লাখ মানুষের বিচার করা হলো সেটা নাকি ন্যয়বিচার আর আমরা পাঁচবছর ধরে শুনতেই আছি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যুদ্ধাপরাধীর ৫ বছর বা ১২ বছরের জেল হয়েছে। অভিযোগ যেহেতু প্রমাণিত হয়েছে যে সে যুদ্ধাপরাধী, সুতরাং তার নূন্যতম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’
‘প্রধান বিচারপতি যদি ওপেন কোর্টে কোনো মন্তব্য করে থাকেন তাহলে সেটা উনারই একজন বিচারপতি হিসেবে, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বোঝা উচিত। এবং এমনটা করে থাকলে আমি আহবান করবো উনি সেটা প্রত্যাহার করে নিবেন অথবা উনি এটা মনে করলে একজন প্রধান বিচারপতির পদে আসীন থাকার সুযোগ কতটা আছে সেই বিচার তিনিই করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর কথা এসেছে। একটা চুক্তি হচ্ছিলো তারা সিমলা চুক্তিতে বলেছিলো পকিস্তানে নিয়ে বিচার করবে। কথা ছিলো পাকিস্তানে তারা ফেরত নিবে। তাই সেই চুক্তির আর কোনো মূল্য নেই। এখন এই বিচার মরণোত্তর হলেও করতে হবে।’






