বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বেশ কয়েকটি প্রবেশ মুখে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর শ্যামলীতে পুলিশের গাড়ি ভাংচুরসহ অন্যান্য স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ৯০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান ও সুত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ গুরুতর আহত অবস্থায় রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ফারুক হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বেলা ১১টার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, ধোলাইখাল, উত্তরা ও মাতুয়াইলে লাঠিসোটা হাতে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। যান চলাচল সচল ও জনদুর্ভোগ লাঘব করতে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনে হামলা চালায়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯০ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিন দুপুর ১টার দিকে শ্যামলীতে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায় বিএনপির কর্মীরা। এসময় পুলিশের গাড়িসহ একটি বাস ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয় বলে জানান ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার ইমরুল।
ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল থেকেই শক্ত অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীও রয়েছে সতর্ক অবস্থায়। ইতোমধ্যে রাজধানী জুড়ে টহল, চেকপোস্ট, তল্লাশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে বলে প্রত্যাশা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পথ আটকাতে দেবো না। কেউ সেই চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, মিরপুর, তেজগাঁও, লালবাগ, ওয়ারী, উত্তরা বিভাগের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা কর্মসূচি ঘিরে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তৎপর থাকবেন গোয়েন্দারাও।









