পাকিস্তানের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে কাশ্মির বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লেফটেন্যান্ট কামার জাভেদ বাজওয়াকে নিয়োগের কথা জানিয়েছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এই নিয়ে ষষ্ঠ বারের মতো কোনো সেনাপ্রধানকে বেছে নিলেন নওয়াজ।
পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ অবসর নিচ্ছেন আগামী ২৯ নভেম্বর। গত দুই দশকের মধ্যে রাহিলই প্রথম পাকিস্তানি সেনাপ্রধান যিনি মেয়াদ না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে অবসরে যাচ্ছেন। তার পরে সংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে ষষ্ঠ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব সামলাবেন বাজওয়া।
বাজওয়া বর্তমানে পাকিস্তান সেনার ইনস্পেক্টর জেনারেল ট্রেনিং অ্যান্ড ইভলিউশন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও সেনার ১০ কর্পস-এর দায়িত্ব ছিল তার হাতেই। এটি পাক সেনার সব চেয়ে বড় কর্পস। নিয়ন্ত্রণরেখা নজরদারির দায়িত্বে আছে এ কর্পস-এর হাতেই।
গত কয়েকদিন ধরে সেনা ও পাকিস্তানের প্রশাসনিক মহলে চারটি নাম ঘোরাঘুরি করছিল। বয়সের দিক থেকে এগিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জুবাইর মাহমুদ হায়াত। তিনি এখন চিফ অব জেনারেল স্টাফ। এর পরেই ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইসফাক নাদিম আহমেদ। ইসফাক বর্তমানে মুলতান কর্পসের কমান্ডার। আর ছিলেন ভাওয়ালপুর কর্পসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জাভেদ ইকবাল রামদাই। তবে নওয়াজ ভরসা রাখলেন বাজওয়ার উপরেই।
বাজওয়া দীর্ঘ দিন নিয়ন্ত্রণরেখা ও কাশ্মিরের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাশ্মির সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজনকেই নওয়াজের দরকার ছিল। সেই সূত্রেই হয়তো বাজওয়াকে বেছে নেয়া বলে মত বিশ্লেষকদের। তাছাড়া বাজওয়া রাজনীতিতে আগ্রহী নন এবং সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালেই কাজ করতে ভালবাসেন।
জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কঙ্গোতে দায়িত্ব পালন করেছেন বাজওয়া। সেখানে তিনি ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই সময়ে সাবেক ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিক্রম সিংহও কঙ্গোয় ছিলেন। ফলে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজওয়ার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।
বাজওয়া বালোচ রেজিমেন্ট থেকে কাজ শুরু করেছিলেন। জেনারেল আয়ুব খান, জেনারেল আসলাম বেগ, জেনারেল কিয়ানি-র পরে এ নিয়ে এই রেজিমেন্ট থেকে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে পাক সেনার দায়িত্ব নেবেন বাজওয়া।









