উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ যখন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে তখন সেই অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাইবার ক্রাইম। এটা শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা বিষয়টা এমন নয়, বরং বিশ্বের প্রায় সব দেশ নতুন ধরনের এই অপরাধের শিকার। বিশ্বজুড়ে সাইবার ক্রাইম বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাইবার ক্রাইমের শক্তি এবং নেটওয়ার্ক স্পষ্ট।
অবশ্য বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, নিকট অতীতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনেও সাইবার ক্রাইমের ভয়াবহ রূপ দেখা গেছে। কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি থাকলেও স্বার্থান্বেষী মহল এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব রটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এমনকি এর জেরে সেই মহল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে ভাঙচুরের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের গুজব রটানোর চেষ্টা করেছিল একটি মহল।
এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার ক্রাইম শঙ্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংসদে ‘গুজব শণাক্তকরণ সেল’ গঠন করার কথা জানিয়েছেন।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলামের কথায়ও শঙ্কার বিষয়টি নতুন করে উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন: ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইবার ক্রাইমকে হুমকি হিসেবে দেখছে পুলিশ। নির্বাচনের সময় একটি চক্র অনলাইনে মিথ্যা ও গুজব রটাতে পারে। তবে এই অপরাধ দমনে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সজাগ রয়েছে।’
আমরা পুলিশের এই দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কথায় আশ্বস্ত হতে চাই। সিটিটিসি সহ পুলিশের এ সংক্রান্ত অন্যান্য ইউনিট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য ইউনিটগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ এক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চাই, বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে কেউ যেকোন ধরনের ক্রাইম করার আগে অন্তত একশ’ বার ভাবুক।
একইসঙ্গে বিনা দোষে কিংবা শুধুমাত্র সরকারবিরোধী প্রচারণার কারণে কেউ যাতে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন সেই বিষয়টিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। কোনটা ক্রাইম আর কোনটা সাধারণ গণতান্ত্রিক অধিকার সে সম্পর্কে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ সম্যক অবগত বলেই আমরা বিশ্বাস করি।









