মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন এবং তাদের আক্রমণ ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ত্বরান্বিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিমান বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করছে বিমান বাহিনী জাদুঘর এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর। এ জাদুঘরে বিমান বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরা হয়ছে। এখানে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত সেই ডাকোটা বিমান, রয়েছে অটার বিমানটিও।
আগারগাঁওয়ের আরেক দিকে অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের। এখানে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়বে ছাদের একপাশে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ব্যবহৃত এলয়েট থ্রি হেলিকপ্টার। এটি চালিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ওপর একের পর এক আক্রমণ করে পর্যদুস্ত রেছিলেন, সেসময়ের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাংকেতিক নাম কিলোফ্লাইটের নেতৃত্ব দেওয়া স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ।
১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে গঠিত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বাহিনীর সাংকেতিক নাম দেওয়া হয় কিলো ফ্লাইট। ১০ জন পাইলট, ৬৭জন টেকনিশিয়ান, একটি এলয়েট থ্রি হেলিকপ্টার, একটি অটার এবং একটি ডিসি-থ্রি ডকোটা উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু হয় ইউনিটটির। কিলো ফ্লাইটটের নেতৃত্ব দেন সেসময়ের স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ।
মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। একাত্তরের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে ভারতের কৈলশহর থেকে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জীবনের মায়া ত্যাগ করে নীচ দিয়ে উড়ে বাংলার আকাশ সীমায় প্রবেশ করে সফল অভিযান পরিচালনা করেন কিলো ফ্লাইটের সদস্যরা।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শামসুল আলম ও ক্যাপ্টেন আকরাম এর নেতৃত্বে অটার প্লেন থেকে রকেট ছুঁড়ে ধ্বংস করে দেয় চট্টগ্রাম তেল ডিপো। ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে তেলে ডিপোতে এলয়েড-থ্রি হেলিকপ্টার থেকে আঘাত হানেন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম।
উন্নত সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের অধিকারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিপক্ষে প্রথম সফলতার পর, দেশকে স্বাধীন করতে ৫০টি সফল অভিযান চালান, স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন সহ কিলো ফ্লাইটের অন্য সদস্যরা।
দেশের এই বীর যোদ্ধা স্থল বাহিনীতেও বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তখন আহতও হন তিনি। এ বীরত্বের কারণে ভূষিত হন বীর বিক্রম খেতাবে। আর মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীতে সার্বিক অবদানের জন্য পার বীর উত্তম খেতাব। এবার স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হচ্ছেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।
আরও বিস্তারিত দেখুন ওবায়দুল রশিদের ভিডিও রিপোর্টে-









