সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে নানা রকমের প্রতারণা করত বাংলাদেশের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবে খেলতে আসা নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা। দুই বাংলাদেশি নাগরিকের সহায়তা নিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি- অর্গানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম।
প্রতারণার অভিযোগে নাইজেরিয়ান ৫ ও বাংলাদেশি ২ নাগরিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মোল্লা নজরুল বলেন, সম্প্রতি নাদিরা আক্তার নামে এক চিত্রশিল্পী ইংল্যান্ডের একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ছবি পাঠান। প্রতারকরা নাদিরার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাকে ফোন করে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে বলে জানায়। প্রতারক চক্রের সদস্য থমাস কিং বলে, চট্টগ্রাম বন্দরে আপনার জন্য একটি পার্সেল রয়েছে। সেখানে ৩ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশী প্রায় ৩ কোটি টাকা) ও আকর্ষণীয় পুরষ্কার আছে।
তিনি বলেন, এরপর শামীমা রহমান নামে এক নারী চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে নাদিরাকে ফোন করেন। পার্সেলটিতে পাউন্ড থাকায় সেটি আটক করে মামলা করা হয়েছে বলে জানায়। এটি ছাড়িয়ে নিতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিতে বলে। পরবর্তী সময়ে নানা কথা বলে আরও ২ লাখ টাকা আদায় করে। কয়েক দফায় সব মিলে মোট ১ কোটি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করেন।
ভুক্তভোগী টাকা পরিশোধের পর থমাস কিং এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নাদিরাকে পার্সেলটি আর পাওয়া যাবে না বলে জানান এবং নানা ধরণের হুমকি দেন। এরপর নাদিরা রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৯।
তিনি বলেন, নাইজেরিয়ান আসামিদের সবাই ফেনী সকার ক্লাবের ফুটবলার। তারা মোহামেডান ও আবাহনী’র পক্ষেও ফুটবল খেলেছে। এই চক্রের সদস্যরা এর আগেও প্রতারণার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কাছে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তারা জামিনে বের হয়ে আবারও প্রতারণায় লিপ্ত হন। আমরা তাদের পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য পাসর্পোট অফিসে যোগাযোগ করবো। সেই সঙ্গে অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশনের সঙ্গেও লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হবে। তারা যেসব ক্লাবে ফুটবল খেলেছে, সেখানে কিভাবে এবং কতদিন আগে এসেছে সে বিষয় তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অবস্থা সম্পন্ন মানুষদের টার্গেট করে পুরষ্কার ও মূল্যের পার্সেল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ চক্রটি প্রতারণার করে আসছে। এরজন্য তারা ফেসবুকে একাউন্ট খুলে নিজেদের ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান বলে পরিচয় দিয়ে প্রথমে বন্ধুত্ব তৈরি করে বিশ্বাস অর্জন করে। এরপর প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় কোর্টি টাকা।
গ্রেপ্তারের পর তাদের ২০ টি ফেসবুক একাউন্ট পাওয়া গেছে। এগুলো ব্যবহার করে তারা প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করতো। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে ১৯ টি একাউন্ট পাওয়া গেছে, যেখানে টাকা লেনদেন হয়েছে। সে সব একান্টধারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মোল্লা নজরুল বলেন, এই চক্রের অন্য সদস্য কথিত চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা শামীরা রহমানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নি। তবে আমরা ধারণা করছি, ওই নারী কোনো আসামির স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড হতে পারে। এই ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে একাউন্ট হোল্ডারদেরও এই মামলায় আসামী করা হবে বলেও জানান তিনি।









