বাংলাদেশ থেকে এবার দক্ষ জনশক্তি নেবে সৌদি আরব। সেক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ চিকিৎসক, নার্স এবং শিক্ষকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সৌদি আরবের বিনিয়োগ। তাতেও আগ্রহ আছে সৌদি আরবের। বাংলাদেশ-সৌদি আরবের যৌথ কমিশনের বৈঠক শেষে একথা জানিয়েছে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শ্রম বাজারের হিসেবে বাংলাদেশের সবচে ‘বড় বাজার’ সৌদি আরব। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে সেখানে থাকেন প্রায় অর্ধকোটি বাংলাদেশি। তবে তাদের বেশিরভাগই অদক্ষ শ্রমিক। কায়িক শ্রমিকদের সেই সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছে। যদিও বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অদক্ষ পুরুষ শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রেখেছে দেশটি।
এবার নিতে চায় দক্ষ শ্রমিক। বাংলাদেশ-সৌদি আরব এগারোতম কমিশন বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই জানালেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
সৌদি আরবের শ্রম উপমন্ত্রী ডক্টর আহমাদ বিন ফাহাদ আল-ফুহাইদ বলেন, আমাদের দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশীরা অনেক অবদান রাখেন, এজন্য তাদের ধন্যবাদ। এবার আমরা ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকদের মতো কিছু দক্ষ মানুষ নিতে চায়। সবমিলিয়ে শ্রমবাজার নিয়ে আমাদের চিন্তা অব্যাহত থাকবে। চেষ্টা থাকবে যত সহজে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এই বিষয়ে দুই দেশ একসাথে কাজ করবো।
বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ নিয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে। সৌদির আগ্রহ কৃষি খাতে বিনিয়োগের।
বাংলাদেশের অর্থ সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন বলেন, ওমরাহ ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়ে সৌদির সঙ্গে কথা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছি। এর বাইরে আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে সৌদি আরবকে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছি। তারাও আগ্রহী।
দু’দিনের যৌথ কমিশন বৈঠক শেষে দু’দেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সই হয়েছে সমঝোতা স্মারক। এছাড়াও তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ঔষধ এবং কৃষিজাত পণ্যে শুল্ক ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ।
সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও ইস্যুগুলো তোলেন সৌদি শ্রম উপ-মন্ত্রী ফুহাইদ।






