বলে-ব্যাটে সমানতালে ঝড় তুলেও পাকিস্তানকে জেতাতে পারেননি শহীদ আফ্রিদি। চরম নাটকীয়তা ভরপর ম্যাচে ৩ রানে হেরেছে তার। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নেয় ইংল্যান্ড। প্রথম ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৭২ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
১৭৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও রাফাতুল্লাহ মোহমান্দ। উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ বলে ৫১ রান যোগ করেন দুজন। অবশ্য ৯ রানের ব্যবধানে শেহজাদ (২৮) ও রফাতুল্লাহ (২৩) দুজনই বিদায় নেন।
এরপর তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক মিলে ৩০ রানের জুটি গড়েন। ৩৫ রান করে হাফিজ বিদায় নিলে ভেঙে যায় জুটি। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।
মালিক ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন আফ্রিদি। তখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ বলে ৫৩ রান। নিজের প্রথম বলেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন আফ্রিদি।
শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ৪৭ রান। ক্রিস ওয়াকসের করা ইনিংসের ১৮তম ওভারের প্রথম ৫ বলেই তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন বুম বুম।
কিন্তু শেষ বলে আফ্রিদি থার্ড ম্যানে প্ল্যাঙ্কেটের দুর্দান্ত এক ক্যাচে বিদায় নিলে জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় পাকিস্তানের। ৮ বলে ৩ ছক্কা ও এক চারে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
ডেভিড উইলির করা পরের ওভারে থেকে ১৪ রান নিয়ে পাকিস্তান শিবিরে আবার আশা জাগিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ ও আনোয়ার আলী। শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১১ রান।
কিন্তু ওয়াকসের করা ওভারের প্রথম বলেই সরফরাজ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান। পরের বলে সোহেল তানভীর চার মারলেও বাকি চার বল থেকে ৩ রানের বেশি নিতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ বল থেকে কোনো রানই নিতে পারেননি আনোয়ার আলী।
৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট। ওয়াকস ও আদিল রশিদ নেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জেমস ভিন্সের ৩৮, জস বাটলারের ৩৩ আর জেসন রয়ের ২৯ রানের সুবাদে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় ইংল্যান্ড।
৪ ওভার বল করে মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেন আফ্রিদি। দারুণ বোলিংয়ের পর জয়ের হাসি হাসতে পারলেন না তিনি।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট। সিরিজের তৃতীয় ও নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচ হবে আগামী সোমবার শারজায়।






