বিরাট ঋণ ও ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ভারতীয় টেলিকম সেক্টরে প্রায় দেড় লাখ মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে টেলিকম কোম্পানিগুলো ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গালফ টাইমস
টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চলমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে জনবল কমিয়ে আনা ও টেলিকম কোম্পানিগুলো একীভূতকরণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
ভারতের আইডিয়া সেলুলার ভোডাফোন ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে আইডিয়া ও ভোডাফোন একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ সময় পর্যন্ত আইডিয়া সেলুলার মোট পাঁচ-ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে। অন্যদিকে ভোডাফোন ইন্ডিয়া এরই মধ্যে তাদের ১ হাজার ৪০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে।
এছাড়া ভারতী এয়ারটেলও তাদের দেড় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। টেলিনর ইন্ডিয়ার ভারতীয় ব্যবসা অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে ভারতী এয়ারটেল। এ কারণে আগামীতে প্রতিষ্ঠানটি আরো কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিস্টেমা শ্যাম টেলিসার্ভিসেসের সঙ্গে কার্যক্রম একীভূতকরণের অংশ হিসেবে রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্স গত বছর ১ হাজার ২০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এয়ারসেলের সঙ্গে কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে এ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। শিগগিরই আরো ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করতে পারে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস।
বিশ্লেষকদের মতে, রিলায়েন্স জিওর প্রবেশ ভারতের টেলিকম খাতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা শুরু হয়েছে। জিও’র বিভিন্ন সাশ্রয়ী মূল্যের সেবার কারণে অন্যান্য অপারেটর তাদের সেবার মূল্য কমাতে বাধ্য হচ্ছে। রিলায়েন্স জিওর সঙ্গে টেক্কা দিতে ভারতের টেলিকম অপারেটরগুলোর মধ্যে একীভূতকরণ প্রবণতা বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের টেলিকম খাতে শিগগিরই ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অবশ্য ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী মনোজ সিনহা সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে’ বলেছেন, টেলিকম খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার অবগত আছে। সংশ্লিষ্ট খাতকে এর আগে আরো খারাপ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার হস্তক্ষেপ করেছিল। টেলিকম খাতে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা ক্ষণস্থায়ী। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভারতের টেলিকম খাতে কখনো অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে না।
ভারতে টেলিকমসেবার গ্রাহক বৃদ্ধির পাশাপাশি ডাটাসেবার চাহিদা বেড়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ের গ্রাহক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানে ডাটা ব্যবহার বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদা পূরণে অপারেটরদের জটিলতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনের সঙ্গে টেলিকম কোম্পানিগুলোর ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেলিকম বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে চলতি বছর এপ্রিলে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) টেলিকম খাতের কোম্পানিগুলোকে দেয়া ঋণ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
ভারতের জিডিপিতে টেলিকম খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মীর সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে।









