পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের বানভাসীদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নেতাকর্মীদের নিদের্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে পাঠানো ওই বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত প্রতি বছর ঈদ উল আজহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা কুরবানীর প্রধান শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য।
তিনি বলেন, দেশে এক ভয়ংকর নৈরাজ্য চলছে। মানুষের জান, সহায়-সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ঈদের প্রাক্কালে বেশ কয়েকটি গুমের ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভয়াল অন্ধকার উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। দেশের বর্তমান অবস্থায় সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভারে উপভোগ করা সম্ভব হবে না।
“চাল, ডাল, লবন, পিঁয়াজ, মরিচসহ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ আরো বিপন্ন হয়ে পড়বে। পানি, জ্বালানী তেল, গ্যাস, বিদ্যূতের তীব্র সংকট, সড়ক ও মহাসড়কের বেহাল অবস্থা জনজীবনে দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে।”
বিএনপি চেয়াপার্সন বলেন, এবারে একের পর এক হাওড়ে বন্যা, পাহাড়ী ধ্বস ও সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলসহ দেশের ২৭টি জেলায় ভয়াবহ বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেকেই স্বজন হারিয়েছে, ঘরবাড়ী, জোত-জমিসহ সহায় সম্পদ বানের পানিতে ভেসে গেছে। এখনও ভেসে যাওয়া বসতবাড়ীর শুণ্য ভিটায় ঠাঁই করতে পারেনি হাজারো মানুষ।
“তাই আমি বিএনপি নেতাকর্মীসহ দেশের সকল বিত্তবান ও সামর্থবান ব্যক্তিদের আহবান জানাই-প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত অসহায় মানুষের দিকে সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করার জন্য। ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে-সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের ঈদের আয়োজনে উপদ্রুত অসহায় মানুষ যেন অংশগ্রহণ করতে পারে সেই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, ঈদের আনন্দকে ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে মিলে। ঈদ উল আজহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যর মেলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা জানাই।









