রোলাঁ গারোঁতে খেলতে এসেছিলেন অবাছাই হিসেবে। আর প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম খেলতে নেমেই গড়ে ফেললেন ইতিহাস। উন্মুক্ত যুগে প্রথম অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে নিয়েছেন ইয়েলিনা ওস্তাপেঙ্কো। রোমানিয়ার সিমোনা হালেপকে ৬-৪, ৪-৬, ৩-৬ সেটে হারিয়েছেন এই লাটভিয়ান টেনিসকন্যা।
খেলার ফলাফল বলে দেবে না কী দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ম্যাচ জিতেছেন ওস্তাপেঙ্কো। হালেপের কাছে প্রথম সেটটা লড়াই করে হেরেছেন। ২-০তে পিছিয়ে ছিলেন দ্বিতীয় সেটে। সেখান থেকে একের পর সার্ভিস ব্রেক করে হালেপকে পুড়িয়েছেন সেট হারের জ্বালায়।
সেই জ্বালা শেষ পর্যন্ত হারের বেদনা হয়েছে ক্যারিয়ারে কোন গ্র্যান্ড স্লাম না জিতে প্রথমবারের মত র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠা সিমোনা হালেপের জন্য। ফাইনালের আগে বলেছিলেন রোলাঁ গারোঁ জিতে গ্র্যান্ড স্লামের আক্ষেপ ঘোচাবেন। তৃতীয় সেটে এগোচ্ছিলেন সেভাবেই। এক পর্যায়ে ৩-০তে এগিয়েও ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় সেটের মত এবারও প্রতিরোধ গড়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাই কেড়ে নিয়েছেন ওস্তাপেঙ্কো। ১৯৩৩ সালের পর প্রথম অবাছাই হিসেবে উঁচিয়ে ধরেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা।

ম্যাচের পর কথা বলার ভাষাই যেন হারিয়ে ফেলেছেন লাটভিয়ান টেনিসকন্যা। শিরোপা জেতা তো দূরের কথা, টুর্নামেন্ট খেলতে পারবেন কিনা তারও ছিল না নিশ্চয়তা, ‘আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, তাও ২০ বছর বয়সে। কি বলবো বুঝতে পারছি না। এটা আমার স্বপ্ন। সিমোনা একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, কিন্তু আমিও লড়ে গেছি। হাল ছাড়িনি। আমি খুশি শেষটা ভালো হয়েছে।’
অন্যদিকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে গ্রান্ড স্লাম জেতার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও না পারার আক্ষেপে স্তম্ভিত হালেপ, ‘আমি স্তম্ভিত কারণ জিততে পারিনি, কিন্তু এমন অভিজ্ঞা অসাধারণ। হয়তো জয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, পরেরবার আশা করি এরকম আর হবে না।’









