ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে আবারও হামলা শুরু হতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
ইরান শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং অঞ্চলটির চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়।
শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের আব্বাস আরাঘচি বলেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাঠিয়েছে ইরান।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সেখানে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আরাঘচি আরও বলেন, এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও ছাড়বে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়, তাহলে প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ট্রাম্পের শর্তগুলো পূরণ করবে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সন্দিহান। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প আবারও ইরানে বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালিকে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছেন। সেখানে প্রণালিটির নাম হিসেবে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ লেখা ছিল।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করবে।
এসব শর্তের মধ্যে ছিল, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর থাকা তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা স্থগিত করা, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানের নতুন প্রস্তাবটি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে। ওই চুক্তি পরে ভেঙে যায়।
১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফা একটি চুক্তিতে সই করেছিলেন।
চুক্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, লেবাননেও সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করার কথা ছিল।
তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তি আর কার্যকর নেই। এর এক সপ্তাহ পর ইরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটন তার সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।
এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।
তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এখন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধের কোনো নতুন উদ্যোগ আসে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









