ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় এবং নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধুসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ভোটারকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) নিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দিল্লিতে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আগের রেকর্ডের অসঙ্গতি পাওয়ার পর এসব নোটিশ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ৯৭ লাখের বেশি ভোটারকে নিয়ে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যের অসঙ্গতি থাকায় ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ভোটারকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বর্তমান তথ্য ২০০২ সালের সর্বশেষ এসআইআর রেকর্ডের সঙ্গে মেলেনি।
দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, এসব নোটিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়েছে। ভোটারদের ইসিনেট (এসিনেট) রেকর্ডে থাকা অসঙ্গতি সংশোধনের সুযোগ দিতেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়া মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে—এমন নয় বলেও জানানো হয়েছে।
এল কে আদভানি, তার মেয়ে প্রতিভা ও পুত্রবধূ গীতিকাকে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকার সঙ্গে তথ্য না মেলায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদভানির ছেলে জয়ন্তের তথ্য সফলভাবে মিলে গেছে। চারজনই নয়াদিল্লি বিধানসভা আসনের ভোটার।
এস জয়শঙ্কর ও তার স্ত্রী কিয়োকোকেও নয়াদিল্লি বিধানসভা আসনের সুনেহরি বাগ এলাকার ভোটার হিসেবে ‘সর্বশেষ এসআইআরের সঙ্গে তথ্য না মেলার’ কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় ও তার স্ত্রী সুদেশের ভোটার তথ্যেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের ঠিকানা হিসেবে উপরাষ্ট্রপতির বাসভবনের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধুর নামের সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতির কারণে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার ছেলে দামানবীরের নোটিশে অভিভাবকের নামের অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনই দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট বিধানসভা আসনের ভোটার।
সাবেক দিল্লি উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, তার স্ত্রী সীমা ও ছেলে মীরকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসোদিয়ার নোটিশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তার ছেলের নোটিশে অভিভাবকের নামের অসঙ্গতি এবং স্ত্রীর নোটিশে নিজের নামের অসঙ্গতির কথা বলা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা বা বুথ লেভেল কর্মকর্তার কাছে জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে এবং যথাযথ আদেশ জারি করতে হবে।
দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্যায় ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৪ নভেম্বর প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবালও তথ্যের অসঙ্গতির কারণে নোটিশ পেয়েছেন। তবে নথি যাচাইয়ের পর রেখা গুপ্তার তথ্য ইতোমধ্যে বৈধ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শালিমার বাগ আসনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার নাম রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে কপিল সিবাল ও তার স্ত্রীকে ‘সর্বশেষ এসআইআরের সঙ্গে তথ্য না মেলা’ শ্রেণিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিবাল নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে একে ভোটার বাদ দেওয়ার ‘বিশেষ নিবিড় অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ বিবেক দেবরয়ের নামও নোটিশ পাওয়া ভোটারদের তালিকায় রয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে মারা গেলেও তার নাম তালিকায় ছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।









