জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে গিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করে । গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার না করা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়া এবং হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ও তাদের পরিবারের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগও করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
তবে জাতিসংঘে পিএলওর মিশনের নিয়মিত কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা ওই কূটনীতিকেরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্যে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। চলতি মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ও আব্বাসের বক্তব্যে উঠে আসার কথা ছিল।
গত বছরও আব্বাসসহ কয়েকজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আব্বাসকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেয়। এবারও এমন সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসা প্রতিনিধিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একই ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই।









