বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে শীতল যুদ্ধ চলছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের। লিগ পেছানো ও জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা একাধিক ফুটবলারকে চেয়ে চিঠি চালাচালি চলছে বেশকিছুদিন ধরে। মোহামেডানের অভিযোগ, নানা বিষয়ে একাধিক চিঠি দেয়া হলেও বাফুফে কোনটির উত্তর দেয়নি।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল লিগ মাঠে গড়ানোর কথা। লিগে অংশ নেয়া ১৩ ক্লাবের মধ্যে ১০টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে লিগের খেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছিল। ক্লাবগুলোর সেই দাবি উপেক্ষা করে গত রোববার রাতে লিগ ও ফেডারেশন কাপের সূচি চূড়ান্ত করেছে বাফুফে।
সূচি ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটির ৯ ফুটবলার বর্তমানে আসিয়ান কাপের প্রস্তুতির জন্য চলমান জাতীয় দলের ক্যাম্পে আছেন। এতে নতুন মৌসুমের জন্য এখনও অনুশীলন শুরু করতে পারেনি ক্লাবটি।
সবশেষ, সোমবার রাতে আবারও বাফুফেতে চিঠি পাঠায় ক্লাবটি। মঙ্গলবারের মধ্যে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা তাদের ৯ ফুটবলারকে অবমুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে, যাতে লিগ সামনে রেখে দলটি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন শুরু করতে পারে। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের এক কর্মকর্তাও।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা মোহামেডানের ৯ ফুটবলার হলেন- সুজন হোসেন, আনিসুর রহমান জিকো, রহমত মিয়া, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সৌরভ দেওয়ান, সোহেল রানা, শাহরিয়ার ইমন।
মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া চ্যানেল আইকে জানালেন, ‘আমরা চিঠি দিয়েছিলাম লিগ পেছাতে, সাফের পর একেবারে শুরু করতে। কিন্তু বাফুফে আমাদের কথা শোনেনি। তাদের একাধিক চিঠি দিয়েও জবাব পাইনি।’
‘প্রতিমাসে খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ। শুধু বিদেশি খেলোয়াড়দের বেতনই ৪০ হাজার ডলার। এখন লিগ শুরু হলে সামনে আন্তর্জাতিক বিরতি, এরপর সাফ। আর্থিকভাবে বিষয়টি খুবই চাপের। তাই সাফের পর একেবারে লিগ শুরু করলে আমাদের জন্য স্বস্তির হতো।’
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় ফুটবল দল আসিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার পথে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।
মোহামেডান চিঠিতে জানিয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি। নিয়ম অনুযায়ী, সেদিন জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে তাদের কোন আপত্তি নেই।









