চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও উদ্যোক্তা নিতুন কুণ্ডুর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বহুমাত্রিক এই শিল্পী ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। চিত্রকলা থেকে ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের পোস্টার থেকে শিল্পোদ্যোগ, নানা ক্ষেত্রে তাঁর সৃজনশীলতার ছাপ রয়েছে।
কীর্তিমান এই শিল্পী ১৯৩৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম নিত্য গোপাল কুণ্ডু হলেও নিতুন কুণ্ডু নামেই তিনি পরিচিতি পান।
১৯৪২ সালে দিনাজপুরের বড়বন্দর পাঠশালায় তাঁর লেখাপড়ার শুরু। ১৯৪৭ সালে ভর্তি হন দিনাজপুর শহরের গিরিজানাথ হাইস্কুলে। ১৯৫২ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন।
১৯৫৪ সালে তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন নিতুন কুণ্ডু। ১৯৫৯ সালে চিত্রকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে পাঁচ বছরের কোর্স সম্পন্ন করেন। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগাড় করতেন তিনি। সিনেমার ব্যানার এঁকে উপার্জন করেই চালিয়েছেন শিক্ষাজীবনের ব্যয়।
শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকার মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে যোগ দেন নিতুন কুণ্ডু। ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। ষাটের দশকে স্বাধিকার আন্দোলনের সময় বামপন্থি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অধীনে তথ্য ও প্রচার বিভাগে ডিজাইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিতুন কুণ্ডু। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে তাঁর আঁকা ‘সদাজাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী’ স্লোগানের পোস্টারটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
স্বাধীনতার পর আর চাকরি করেননি তিনি। স্বাধীনভাবে সৃজনশীল কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে গড়ে তোলেন ‘অটবি’ নামে প্রতিষ্ঠান। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পায়।
চিত্রকলা ও ভাস্কর্যের পাশাপাশি দেশের শিল্প ও উদ্যোক্তা জগতেও নিতুন কুণ্ডু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ ও ‘সার্ক ফোয়ারা’।
সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ও এশিয়া কাপ ক্রিকেট পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা।
২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন নিতুন কুণ্ডু। ক্যানভাস, পোস্টার, ভাস্কর্য ও শিল্পোদ্যোগের ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে রেখে যাওয়া তাঁর কাজ আজও বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসে স্বতন্ত্র জায়গা করে আছে।









