সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর এ কথা জানিয়েছেন আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রুনির ভাই রোমান তার ভাগনে ও সাগর-রুনির ছেলে মেঘকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদনটি জমা দেন। এতে মামলাটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্ত করা অথবা ট্রাইব্যুনালের কাছে থাকা কোনো তথ্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
‘ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধ কি না, দেখা হবে’
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি হত্যা আপাতদৃষ্টিতে একটি একক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তবে এটি কোনো ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধের অংশ কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে মামলাটি না পড়লে আবেদনকারীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
সাগর-রুনি হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা সূত্র ট্রাইব্যুনালের হাতে এসেছে কি না, জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা জানান।
আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা দুজন ব্যক্তির মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন। তাঁদের একজন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তি এবং অন্যজন একজন সামরিক কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
এর আগে প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, তদন্তে ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ডিস্ক হস্তান্তরের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে চলমান বিচারিক কার্যক্রমের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বা গণমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তিদের নাম নিশ্চিত করতে রাজি হননি চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার মূল ও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই দায়িত্ব পালন করছে।
তবে ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কোনো তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য, সূত্র বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দেওয়া হবে। এতে মামলার তদন্তে সহায়তা হতে পারে বলে জানান তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত চললেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। এবার মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, সেটিই পর্যালোচনা করবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।









