সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করে একটি সাক্ষর, দক্ষ ও পরিবেশ-সচেতন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আজ দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬। এ বছর দিবসটির আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।
১৯৬৬ সালে ইউনেস্কোর ঘোষণার পর থেকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
বর্তমান যুগে শুধু নাম-দস্তখত বা সাধারণ অক্ষরজ্ঞানকে সাক্ষরতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে সরকার। ডিজিটাল তথ্য গ্রহণ, অনলাইনে তথ্য যাচাই এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হওয়াকেও এখন সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন করতে জীবনমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনাও জানিয়েছে সরকার।
ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সাক্ষরতার হারে অগ্রগতি হলেও এখনো প্রায় ৭৭৫ মিলিয়ন মানুষ ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞান থেকে বঞ্চিত। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী। দক্ষিণ এশিয়াতেও প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতার হার এখনো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরক্ষরতার সঙ্গে চরম দারিদ্র্য ও অসচেতনতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি মানুষের জীবন ও কর্মের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করা জরুরি।
স্বাক্ষরতাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ডিজিটাল ও জীবনমুখী শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াকেই বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









