ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ভবন ধসে পড়েছিল গতকাল রোববার। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ধসে পড়া ভবনটি ছিল প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এবং দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে ভবনটির মালিক সংস্কার করে সেটিকে ছাত্রদের জন্য পেইং গেস্ট (পিজি) হোস্টেলে রূপ দেন। তবে ভবনের সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই সেটি ধসে পড়ে।
ভবনটির নাম ছিল ‘হোস্টেল ডেজ’। এতে প্রায় ৩০টি কক্ষ ছিল। প্রতিটি কক্ষে দুই থেকে তিনজন শিক্ষার্থী থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আবাসনের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ভবনটি থেকে আয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালিক হরি রাম বনসাল কয়েক মাস ধরে ভবনটির সংস্কার ও পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। চলতি বছরের আগস্টে সেখানে ভাড়াটিয়ারা উঠতে শুরু করেন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী। তবে তখনও ভবনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ভবন ধসের সময়ও শ্রমিকরা বেজমেন্টে কাজ করছিলেন।
উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে দুজন শ্রমিক ছিলেন। এতে দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে নির্মাণকাজ চলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ওই শ্রমিকদের একজন ধসে নিহত হয়েছেন।
দিল্লিতে টানা দুই দিনের বৃষ্টির পর ভবনটির আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সড়কের ঢালু অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় পানি জমার সমস্যা আরও বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধসে পড়া ভবনের বেজমেন্টেও পানি জমে ছিল। এরপরও সেখানে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যেও শ্রমিকরা বেজমেন্টে কাজ করছিলেন। এখানকার ভবনগুলোর বেজমেন্টে পানি জমে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তারাও সেখানে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।’
এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা জানান, তিনি প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তার দাবি, অনেক বাড়িকে পিজি হোস্টেলে রূপান্তর করা হচ্ছে এবং মালিকরা নিজেরা অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এখানে পাঁচ-ছয়তলা পর্যন্ত ভবন তৈরি হচ্ছে। অনেক বাড়ি ছেলেদের পিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। মালিকরা অন্য জায়গায় চলে যান। অনলাইনে ভাড়া নেন এবং এরপর আর এলাকায় এসে ভবনগুলোর খোঁজ রাখেন না।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বনসাল প্রায় ২০ বছর আগে গুরুগ্রামে চলে গেছেন। তবে তিনি নিয়মিত ভবনটি দেখতে আসতেন।
ওই বাসিন্দার ভাষ্য, ‘বেজমেন্টে কিছু কাজ চলছিল এবং একটি দেয়ালও সরানো হচ্ছিল। বনসাল নিয়মিত ভবনটিতে আসতেন।’
ভবনটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়েছিল। বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য এটি অনুমোদিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপরও সেটিকে শিক্ষার্থীদের পিজি হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ঘটনার পর ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ ভবন কীভাবে সংস্কার করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহার করা হলো এবং নির্মাণকাজ চলার সময় সেখানে কেন লোকজন থাকতে দেওয়া হলো।
দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তৎপর হলেও স্থানীয়দের মতে, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং সেখানে চলমান নির্মাণকাজ নিয়ে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।









