এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দুই বছর আগে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির কথা তুলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজনের জন্য তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন তামিম ইকবাল। প্রয়োজনে পারিশ্রমিক কমিয়েও টুর্নামেন্ট আয়োজনের পক্ষে ছিলেন তিনি। এমনকি সর্বশেষ বিপিএল নিয়েও টুর্নামেন্টের নানা সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক। অথচ বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর সেই তামিমই এ বছর বিপিএল আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার পুরোনো অবস্থান ও বর্তমান সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিজের আগের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, আগের দুই আসরে চুক্তি ছাড়াই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের খেলানো, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বকেয়া রাখা, যাতায়াত ও হোটেল বিল পরিশোধ না করার মতো ঘটনা বিপিএলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই তড়িঘড়ি আরেকটি আসর আয়োজনের বদলে টুর্নামেন্টকে নতুন করে গোছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
তামিম বলেন, ‘আমি একজন ক্রিকেটার হিসেবে ওই সময় যিনি সভাপতি ছিলেন, তার কাছে গিয়েছি। অনুরোধ করেছি। জোরপূর্বক বিপিএল করা হয়েছে, এটা বলাটা ভুল। আমরা বলেছি যে এটা তো এটা করেন ভাই। তা না হলে আমাদের ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। আবার ২০-২৫ শতাংশ (পারিশ্রমিক) কমায় দেব। সবই সত্যি।’
আগের বিপিএলে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা রাজশাহীসহ দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল না দেওয়ার পরামর্শও ফারুক আহমেদকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তামিম। বলেছেন, ‘যে সভাপতির (ফারুক) কাছে আমরা গিয়েছিলাম, আমি তাকেই এক সপ্তাহ পরে এসে এটাও বলেছি যে, এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল দিয়েন না। আপনি ঝামেলায় পড়বেন। তার একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল রাজশাহী।’
তাহলে খেলোয়াড় হিসেবে যে বিপিএল আয়োজনকে জরুরি মনে করেছিলেন, সভাপতি হয়ে সেই টুর্নামেন্টই কেন স্থগিত করলেন? তামিমের যুক্তি, গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা তাকে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
বলেছেন, ‘গত দুইটা বছর যদি বিপিএলটা ভালোভাবে পরিচালিত হতো আর আমি এসে যদি বিপিএলটা না করতাম, তাহলে আপনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারতেন। গত দুই বছরে বিপিএলের হয়েছেটা কী?’
বিপিএলের আগের আসরে চুক্তি ছাড়াই দল খেলানো, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়া, যাতায়াত ও হোটেল বিল পরিশোধ না করার মতো ঘটনাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি।
তামিম বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষর না করে দলগুলোকে খেলানো, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়া, যাতায়াত ভাড়া, হোটেল খরচ না দেওয়া। দুইটা অংশ তো খারাপ হতে পারে না। যেকোনো একটা দিকও যদি ভালো থাকত, আমি তাও জিনিসটা দেখতাম।’
তবে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কারণ দেখছেন না তিনি। বরং অনিয়ম দূর করে আরও মানসম্মত টুর্নামেন্ট আয়োজনের লক্ষ্যেই সময় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তামিম।
বলেছেন, ‘আবারও বলি, বিপিএল বন্ধ, বিপিএল বাদ সেটা না। বিপিএল স্থগিত। বিপিএল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিপিএলটাকে ভালো করে করার যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করব।’









