ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নেপালের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এসব বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে অথবা ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে চাপা পড়েছে। এখনো দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বাড়িও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার ঢল নেমে আসে। এতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। বহু বসতি ও গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
গত সপ্তাহের এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও হাজারো মানুষ।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আগের জায়গাতেই বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ না করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধর্ম রাজ উপ্রেতি বলেন, একই জায়গায় বাড়ি পুনর্নির্মাণের কোনো মানে হয় না। এতে মানুষ আবারও একই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
নতুন করে বসতি স্থাপনের জন্য নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতেও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। উদ্ধার অভিযানে নেপালের সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন।
উদ্ধার অভিযানে থাকা নেপালের এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সামান্যতম আশাও যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলবে। জীবিত কাউকে না পাওয়া গেলেও মরদেহ উদ্ধার করা হবে।
উচ্চ ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উদ্ধারকারী দল ঘাঁটি স্থাপন করেছে। দলটির কাছে ড্রোন, উদ্ধারকারী কুকুর, শব্দ শনাক্তকারী সরঞ্জাম, ভিডিও ও তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি রয়েছে। ওই প্রকল্পে নিখোঁজ নয়জন দক্ষিণ কোরীয় কর্মীর সন্ধানেও অভিযান চলছে।
দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে নেপাল সরকার। বিশেষ করে শিশুদের জন্য অস্থায়ী স্কুল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, মানুষ সবকিছু হারিয়েছে। তাদের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টও নেই।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, বন্যার এক সপ্তাহ পরও অন্তত ২২ হাজার শিশুর নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা জরুরি।

ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুল ভবনের বদলে নিরাপদ স্থানে নতুন স্কুল নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, বন্যার আগে দ্রুত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ায় প্রায় ৯০০ শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। তবে তাদের স্কুল ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
দুর্যোগে বাড়ি ও ছোট দোকান হারানো ৪৫ বছর বয়সী শান্তি সুনার বলেন, আমরা একই জায়গায় নতুন করে বাড়ি বানাতে পারব না, কারণ জায়গাটি নিরাপদ নয়। সরকার আমাদের আরও নিরাপদ এলাকায় পুনর্বাসন করবে বলে আশা করছি।
এদিকে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের আগাম সতর্কতা জোরদার করতে চীন সীমান্তের নেপাল অংশে নতুন করে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে ভূকম্পন শনাক্তকারী সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।









