বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। তবে এবারের দিবসটি বাংলাদেশে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিতে এবার দিবসটির গুরুত্ব পেয়েছে নতুন মাত্রা।
প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক মদদে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ গ্রহণ করে। এরপর ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিচার ও সত্য অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালে বাংলাদেশে গুমের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনা তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিশন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং এসব ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কমিশন কাজ করছে।
স্বজনদের দাবি, ফিরিয়ে দিন, নয়তো সত্য জানান
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা এখনও প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন। ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে তারা ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
স্বজনদের মূল দাবি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত ফিরিয়ে দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে তাদের পরিণতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়ে আসছেন তারা।
স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার দাবি
দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো গুমের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
তাদের মতে, অতীতে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করতে হবে।
বিশ্বজুড়েই গুমের অভিযোগ
গুমের ঘটনা শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে ‘গুম’ বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘ এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে এবং গুম বন্ধে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো গুমের মতো নৃশংস মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা এবং প্রতিটি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছে সত্য, বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করা।









