রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ, মুগ্ধ দাসসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার রাত ১১টা থেকে রোববার ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়াপাড়ার মন্দিরসংলগ্ন দোতলা বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চারটি মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা বালা চক্রবর্তী (৫৫), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। প্রার্থী কারমাইকেল কলেজ থেকে সম্প্রতি মাস্টার্স পাস করেছেন। প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রীতিলতার সঙ্গে তাঁর বোন পূজা চক্রবর্তীর সর্বশেষ কথা হয়। শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে সন্দেহ হয়। পরে বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখতে পান তাঁরা। পাশের বাড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র এলোমেলো এবং আলমারি-ড্রয়ার খোলা অবস্থায় দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। তল্লাশি চালিয়ে ছাদের দরজার পাশে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, ছাদের সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচে স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং দোতলার একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রংপুর সিআইডির এসপি (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, মরদেহগুলোতে পচন ধরেছে। প্রাথমিকভাবে তিন থেকে চার দিন আগে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আসবাবপত্রের ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে চারজনকেই হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। প্রত্যেকের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মুখে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।
তবে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর জিলা স্কুল, কারমাইকেল কলেজ ও বাসদ মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুরো ঘটনা নিয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।
কয়েক দিন ধরে বাড়িটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকা এবং ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলেও প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের না পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।









