ভারতের মহারাষ্ট্রে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে পাহাড়ের কিনারা থেকে সরাতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা গেলেন বাবা। ছেলের পর মা-ও পাহাড় থেকে পড়ে মারা যান। এ ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্যেরই মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২১ অগাস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিউজ এই তথ্য দিয়ে আরও জানায়, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাকে নিজের ভবিষ্যৎ ও বাবা-মায়ের কথা ভাবতে বলা হয়। কিন্তু কোনো কথাতেই তিনি পাহাড়ের কিনারা থেকে সরে আসতে রাজি হননি।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার খাভদা পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
বারবার তিনি বাবা-মাকে বলছিলেন, “আমি লাফ দেব।”
ঘটনাটি শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে। দেবলাই এলাকার বাসিন্দা ওই ১৮ বছর বয়সী তরুণ পাহাড়ের কিনারায় গিয়ে নিজের জীবন শেষ করার হুমকি দেন।
খবর পেয়ে তার মা-বাবা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তারা তরুণকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
প্রথমদিকে তার বাবা নিচ থেকে ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শেষ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে তিনি পাহাড়ের ওপর ছেলের কাছে চলে যান।
ছেলেটি বারবার পাহাড়ের কিনারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন বাবা তাকে সেখান থেকে সরে আসতে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
দুপুর ১টার দিকে ছেলে যাতে পাহাড় থেকে না পড়ে যায়, সে জন্য বাবা তাকে ধরে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনই ভারসাম্য হারিয়ে পাহাড় থেকে পড়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর আতঙ্কিত হয়ে পড়া মাও পাহাড় থেকে পড়ে যান।
পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারাও তরুণটিকে পাহাড়ের কিনারা থেকে সরে আসার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তাদের চেষ্টাও সফল হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জয় যাদব বলেন, তরুণটির বাবা-মা ও অন্যরা তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “বাবা-মা ও অন্যরা তাকে বোঝানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে কারও কথা শুনছিল না এবং পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশ সদস্যরাও সেখানে ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “তার মা বারবার তাকে লাফ না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন।”
ঘটনার পুরো সময়ের কিছু অংশ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিডিও করেন।









