পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক মৎস্যবন্দর আলীপুর ও মহিপুর। দিনভর এখানে চলে সমুদ্র থেকে ধরা মাছের বেচাকেনা, ট্রলারের আনাগোনা এবং জেলে ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা। তবে সূর্য ডুবে যাওয়ার পর এই ব্যস্ত মৎস্যবন্দর যেন রূপ নেয় এক আলোকিত শহরে। নদীর বুকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত মাছ ধরার ট্রলারের লাল, নীল, সবুজ ও সাদা আলো সৃষ্টি করে অনন্য এক নৈসর্গিক পরিবেশ, যা এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও মুগ্ধ করছে।
বৈরী আবহাওয়ায় দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে কয়েক হাজার মাছ ধরার ট্রলার শিববাড়িয়া নদীর দুই তীরে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। দিনের আলোতে নদীর দুই পাড়জুড়ে দেখা যায় অসংখ্য ট্রলার, মাছের আড়ত এবং কর্মচাঞ্চল্য। আর সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারগুলোর প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নদীর শান্ত জলে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে চোখজুড়ানো দৃশ্য। দূর থেকে দেখে মনে হয়, জলের ওপর ভেসে আছে একটি বর্ণিল আলোর শহর।
এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় কুয়াকাটা-কলাপাড়া সড়কের শিববাড়িয়া নদীর সেতুতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ফলে দিন দিন বাড়ছে এ স্থানের জনপ্রিয়তা।
কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকেই জানান, সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি শিববাড়িয়া নদীর রাতের আলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতেই তারা এখানে আসেন। তাদের ভাষায়, ছবিতে যতটা সুন্দর মনে হয়, বাস্তবে দৃশ্যটি তার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে সতর্কসংকেত জারি হলে নদীতে আশ্রয় নেওয়া ট্রলারের সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন সন্ধ্যার পর শুধু পর্যটক নয়, আশপাশের এলাকার মানুষও এই মনোরম দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন। ধীরে ধীরে স্থানটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, উপকূলের জেলেদের জীবনসংগ্রাম, নদীর শান্ত জলরাশি এবং হাজারো আলোর ঝলকানি মিলিয়ে প্রতিটি সন্ধ্যায় শিববাড়িয়া নদী এক অনন্য সৌন্দর্যের গল্প বলে। একবার এই দৃশ্য দেখলে সহজে ভোলা যায় না।
স্থানীয়দের মতে, আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর দেশের সামুদ্রিক মৎস্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও রাতের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরা গেলে এটি উপকূলীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। নদীতীরের সৌন্দর্যবর্ধন, বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ দর্শনপয়েন্ট এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে শিববাড়িয়া নদী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় সান্ধ্যকালীন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।









