বর্ষাকে শুধু জলাবদ্ধতা, যানজট কিংবা নগরজীবনের ভোগান্তির ঋতু হিসেবে নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও নান্দনিকতার অংশ হিসেবে উদযাপনের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’।
একইসঙ্গে সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নিয়েছেন আয়োজকেরা।
নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের উদ্যোগে এবং চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতি ও লোকঐতিহ্যকে নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের পুরো সময়জুড়ে জাগো ফাউন্ডেশনের বুথের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা বন্যার্তদের জন্য অনুদান দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি অর্থি আহমেদ ড্যান্স একাডেমির সদস্যরাও ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করছেন।
অর্থি আহমেদ বলেন, শিল্পীদের শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, সমাজের সংকটের সময় মানুষের পাশেও দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, নগরজীবনে বর্ষা এখন অনেকের কাছে জলাবদ্ধতা ও যানজটের প্রতীক হয়ে উঠলেও বাংলার সংস্কৃতিতে বর্ষা দীর্ঘদিন ধরে উৎসব ও আনন্দের অনুষঙ্গ। সেই সাংস্কৃতিক চেতনাকে নতুন করে সামনে আনার পাশাপাশি মানুষ যেন বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
প্রায় ৯০ মিনিটের এ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্য অবলম্বনে ১৬টি নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে তিন থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০০-এর বেশি শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শিশু ও নবীন নৃত্যশিল্পীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, গৃহিণীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া নৃত্যানুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আয়োজন চলাকালীন পুরো সময়জুড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় অনুদান সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।









