ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক মাস আগে মার্কিন বাহিনীর রক্তাক্ত রাতের অভিযানে এই দম্পতিকে অপহরণ করা হয়—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
‘গ্রান মার্চা’ (দ্য গ্রেট মার্চ) নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ভেনিজুয়েলার নিকোলাসকে প্রয়োজন। হাজার হাজার মানুষ অপহৃত প্রেসিডেন্টের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং অনেকেই মার্কিন কারাগারে আটক দম্পতির মুক্তির দাবিতে লেখা টি-শার্ট পরেন।
মিছিলে বহন করা একটি ব্যানারে লেখা ছিল, সাম্রাজ্যবাদ তাদের অপহরণ করেছে, আমরা তাদের ফিরিয়ে চাই।
সমাবেশে বক্তব্য দেন আটক প্রেসিডেন্টের ছেলে ও ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সদস্য নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। তিনি বলেন, ৩ জানুয়ারি মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে তার বাবার অপহরণ আমাদের ইতিহাসে চিরস্থায়ী দাগ হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মাতৃভূমির মাটি একটি বিদেশি সেনাবাহিনীর দ্বারা অপবিত্র করা হয়েছে, সেই রাতের ঘটনার কথা স্মরণ করে মন্তব্য করেন মাদুরো গুয়েরা।
সরকারের আহ্বানে আয়োজিত এই মিছিলে বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী অংশ নেন। কয়েকশ মিটারজুড়ে বিস্তৃত এই পদযাত্রার সঙ্গে ছিল গান বাজানো ট্রাক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভেনেজুয়েলা নিউজ জানায়, এই কর্মসূচি ছিল মাদুরো দম্পতির মুক্তির দাবিতে আয়োজিত একটি বিশ্বব্যাপী কর্মদিবস -এর অংশ।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত সংহতি কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা তাদের ফিরিয়ে আনুন এবং ভেনেজুয়েলাকে বাঁচান লেখা ব্যানার বহন করেন। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আন্তর্জাতিক এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন আদর্শিক ধারার মানুষ একমত হয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের আটক আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির।
কারাকাসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫৮ বছর বয়সী পৌর কর্মচারী জোসে পেরডোমো বলেন, আমরা বিভ্রান্ত, দুঃখিত ও ক্ষুব্ধ— অনেক আবেগ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আজ হোক বা কাল, আমাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দিতেই হবে।
পেরডোমো জানান, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকেও সমর্থন করেন।
মাদুরোর অপহরণের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেলসি রদ্রিগেজ একদিকে মাদুরোর সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারাকাসের প্রতি উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও সমঝোতার পথে হাঁটছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তার দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলে—বিশেষ করে দেশটির বিশাল তেল মজুদের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে—তিনি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতার সুরে কথা বলার পাশাপাশি রদ্রিগেজ দেশীয় সংস্কার ও জাতীয় পুনর্মিলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি শত শত রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন এবং জাতীয়করণ করা হাইড্রোকার্বন খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীতে শত শত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বন্দীদের স্বজনরা পৃথক মিছিল করে, রদ্রিগেজের প্রতিশ্রুত সাধারণ ক্ষমা আইন দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানান। ওই আইন পাস হলে দেশটির কারাগারগুলো থেকে বহু বন্দী মুক্তি পাবে। তবে এখনো আইনটি সংসদে উত্থাপন করা হয়নি।









