পাবলিক স্পোর্টস সেন্টারে ধর্মীয় সমাবেশের (ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহার) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের একটি শহর। এই নিষেধাজ্ঞাটি, যা প্রথমে চরম-ডানপন্থী ভক্স (Vox) দল প্রস্তাব করেছিল, জুমিলা শহরের মুসলিমদের ওপর প্রভাব ফেলছে। ওই শহরের মুসলিমরা ধর্মীয় উৎসবগুলো স্পোর্টস সেন্টারে উদযাপন করে থাকেন। এই পদক্ষেপকে অনেকে “ইসলামবিদ্বেষী” (Islamophobic) বলে সমালোচনা করছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের একটি শহরে পাবলিক স্পোর্টস সেন্টারে ধর্মীয় সমাবেশের ওপর স্থানীয় প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা মূলত স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করবে। বিষয়টি নিয়ে বামপন্থি সরকার এবং জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা সমালোচনা করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়রের মধ্য-ডানপন্থী পপুলার পার্টি এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন দেয়। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় মুসলিমদের ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহার মতো ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য ব্যবহৃত ক্রীড়া কেন্দ্রগুলোতে কার্যকর করা হবে।
স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইয শুক্রবার বলেছেন, জুমিলা শহরের রক্ষণশীল স্থানীয় সরকার গত সপ্তাহে যে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে, তা “লজ্জাজনক”। তিনি স্থানীয় নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চান।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব প্রথমে চরম-ডানপন্থী ভক্স দল দিয়েছিল। পরে কিছু সংশোধনী এনে তা অনুমোদন করা হয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মুরসিয়া অঞ্চলের ভক্স শাখা এই পদক্ষেপ উদযাপন করে X (টুইটার)-এ লিখেছে: “স্পেন খ্রিস্টান শিকড়ের দেশ ছিল এবং সবসময় থাকবে!”
শহরের মেয়র, সেভে গনজালেস, স্পেনের এল পাইস পত্রিকাকে বলেন, এই পদক্ষেপ কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয় এবং তাঁর সরকার “আমাদের পরিচয় রক্ষাকারী সাংস্কৃতিক প্রচারণা” চালাতে চায়।
কিন্তু স্পেনের ইসলামিক কমিউনিটিস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এল ঘাইদুনি বলেন, এটি আসলে “প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামবিদ্বেষ”। তিনি স্থানীয় সরকারের এই দাবির বিরোধিতা করেন যে, মুসলিমদের এসব উৎসব নাকি “শহরের পরিচয়ের বাইরে”।
ঘাইদুনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্পেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেগুলো ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে।
অভিবাসন মন্ত্রী সাইয স্পেনের অ্যান্টেনা -৩ টিভিকে বলেন, জুমিলার মতো এ ধরনের নীতি সেইসব নাগরিকদের ক্ষতি করে, যারা দশকের পর দশক আমাদের শহর ও গ্রামে বসবাস করছেন, সমাজে অবদান রাখছেন এবং কোন সমস্যা ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে একীভূত হয়ে গেছেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের ইসলামবিদ্বেষবিরোধী বিশেষ দূত মিগেল মোরাতিনোস বলেন, তিনি জুমিলা সিটি কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তে “আশ্চর্য” হয়েছেন এবং তিনি “স্পেনের কিছু অঞ্চলে বিদেশি-বিদ্বেষী বক্তব্য ও ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবের বৃদ্ধির” ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে শুক্রবার বলেন, “এই সিদ্ধান্ত চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে”, যা মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে সুরক্ষিত।
তিনি আরও বলেন, “যে নীতি কোনো একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বা অসামঞ্জস্যভাবে প্রভাবিত করে, তা সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি তৈরি করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি দুর্বল করে।”
উল্লেখ্য যে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্পেন মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল, যার প্রভাব এখনো স্প্যানিশ ভাষা ও দেশের বহু বিখ্যাত স্থাপত্যে দেখা যায়, যেমন গ্রানাডার বিখ্যাত মুরিশ আলহাম্ব্রা প্রাসাদ।
১৪৯২ সালে মুসলিম শাসন শেষ হয়, যখন স্পেনে শেষ আরব রাজ্য ক্যাথলিকদের হাতে পতিত হয়।
এই নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, পৌরসভা পরিচালিত ক্রীড়া সুবিধাগুলো কেবল ক্রীড়া কার্যক্রম বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্যই ব্যবহার করা যাবে। কোনো পরিস্থিতিতেই এই কেন্দ্রগুলো “পৌরসভার সঙ্গে সম্পর্কহীন সাংস্কৃতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় কার্যক্রমের” জন্য ব্যবহার করা যাবে না।









