রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে দুই সহযোগীসহ শুটার আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের সময় কবজি কেটে নেয় আনোয়ারের দলবল। এ কারণে তার গ্রুপ পরিচিত হয়ে ওঠে ‘কবজি কাটা গ্যাং’ হিসেবে।
বাহিনীটি বলছে, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির রাজত্ব গড়ে তোলে কবজি কাটা গ্রুপ। এই রাজত্ব গড়তে গিয়ে আনোয়ার ৭ জনের কবজি কাটাসহ বহু মানুষকে কুপিয়ে আহত ও পঙ্গু করেছে। শুধু কবজি কেটেই ক্ষান্ত হয়নি আনোয়ার গ্রুপ, কবজি কেটে টিকটকে ভিডিও করে উল্লাস করতো আনোয়ার ও তার গ্রুপের সদস্যরা।
কবজি কাটা আনোয়ার ছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগী মো. ইমন এবং মো. ফরিদকে। তাদেরকে আদাবর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র সামুরাই একটি, ছুরি দুইটি, গাঁজা ৮ কেজি, একটি প্রাইভেটকার ও একটি হাতঘড়ি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খালিদুল হক হাওলাদার।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, দীঘদিন শিশু-কিশোরদের ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন মোহাম্মদপুরের কবজি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার। এরপর তাদেরকে মাঠে নামানো হয় ছিনতাই-চাঁদাবাজিতে। এভাবেই মোহাম্মদপুরকে ৯ ভাগ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন শুটার আনোয়ার। এভাবে গড়ে তোলা হয় ১০ থেকে ১২টি গ্যাং।
তিনি জানান, মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং ও আদাবরের শ্যামলী হাউজিং, শেখেরটেক, নবোদয় হাউজিং এলাকায় হত্যা, অস্ত্র-গুলি, মাদক কেনাবেচা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপ বাহিনী।চাঁদাবাজি ও ছিনতাইতে বাধা দিলে কুপিয়ে হাতের কবজি কেটে দিতেন আনোয়ারের দলবল। পরে সেই কবজি দিয়ে বানানো হত টিকটক।
২০০৫ সালে ঢাকায় আসার পর থেকে ট্রাক স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপরাধ জগতে ঢুকে পড়েন আনোয়ার। বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় ১০-১২টি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছে সে। আনোয়ার এ পর্যন্ত নিজেই ৭ জনের ৮ জনের কবজি কেটেছেন। আনোয়ারের নামে হত্যাসহ রয়েছে ১৩ মামলা। আনোয়ার গ্রুপের সদস্য ছাড়াও গত ৬ মাসে মোহাম্মদপুর ও আশেপাশের এলাকা থেকে পাঁচ শতাধিক ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আনোয়ারের মদদদাতাদের বিষয় জানতে চাইলে র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, আনোয়ারের পেছনে দীর্ঘদিন লেগে ছিলাম। আমাদের কাছে তথ্য আসে, মোহাম্মদপুরের এক্সেল বাবু নামে এক ব্যক্তি তাকে মদদ দিচ্ছে। সে আড়ালে থেকে আনোয়ারকে ছত্রছায়া দেয়।
মোহাম্মদপুরে আগে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ হতো। কিন্তু পরিবর্তিত সময়ে এসে কারা অপরাধীদের মদদ দিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ৫ আগস্টের পর একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এই পরিবর্তনের জের ধরে সন্ত্রাসীরা তৎপর হয়ে ওঠে। ৫ আগস্টের পর মোহাম্মদপুরে যে পরিমাণ অপরাধ বেড়েছিল, যৌথভাবে অভিযান করে জেনেভা ক্যাম্পসহ মোহাম্মদপুরের এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। মোহাম্মদপুর ও আদাবরকেন্দ্রিক কোনো সন্ত্রাসী ও গডফাদারের স্থান হবে না।









