বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যার বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকলেও যে মাত্রায় বন্যা হচ্ছে সে বিষয়ে প্রাথমিক সমীক্ষা ছিল না। এ ধরনের আকস্মিক ও প্রবল মাত্রার বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটা ‘কঠিন’ বলে জানাচ্ছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বিবিসি বাংলায় ২২ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আকস্মিক এই বন্যার বিষয়ে অন্তত তিন দিন আগে থেকে সতর্কতা ছিল এবং বিপজ্জনক মাত্রা অতিক্রম করার পূর্বাভাসও ছিল। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, এই আকস্মিক বন্যার বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আসলে বন্যা যে ব্যাপকতায় আসছে আমাদের প্রাথমিক সমীক্ষায় সেই ব্যাপকতার কথা ছিল না।
আকস্মিক এই বন্যা গ্লোবাল চ্যালেঞ্জের অংশ জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যা অতি প্রবল মাত্রার হয়েছে। আর আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ডই একদিনের লিডটাইম। সেই হিসেবে আসলে প্রস্তুতি নেওয়া এমনেই কঠিন। যদি খুবই বড় মাত্রার বন্যা হয় তবে একদিনের প্রস্তুতি যথার্থ না। এটা আসলে গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ আর কি। বিশ্বের নানা জায়গাতেই আকস্মিক বন্যা হচ্ছে। এ ধরনের বন্যায় অনেক অনিশ্চয়তা থাকে।
তিনি আরও বলেন, এই বন্যাতে সাধারণত সর্বোচ্চ তিন দিনের বেশি সময় ওভাবে ইফেক্টিভলি পাওয়া যায় না। অন্তত তিন দিন আগে থেকেই ওয়ার্নিং ছিল। একদিন আগে ডেঞ্জার লেভেলের ফোরকাস্ট দেওয়া ছিল। আকস্মিক বন্যায় তিন দিন পর্যন্ত সতর্কতা থাকে। আমাদের যে ইনিশিয়াল এস্টিমেশন ছিল তার তুলনায় বন্যাটা তীব্র হয়েছে। আমরা যে পরিমাণ পানি আশা করেছিলাম তার থেকে বেশি এসেছে। ফলে বন্যাটা অতি চরম আকার ধারণ করেছে।
উদয় রায়হান বলেন, এছাড়া মৌসুমী লঘুচাপের কারণে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাগরের জোয়ারের লেভেল হাই ছিল। সব মিলিয়ে বন্যাটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। উজানে নদনদীর তথ্য নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছিল। গোমতী নদীতে ভারতের অমরপুর পয়েন্ট থেকে ডাটা পেয়েছি। ভারতের অমরপুর পয়েন্ট বাংলাদেশ থেকে ৮০ কিলোমিটার উজানে। সেখান থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ সবসময়ই তথ্য শেয়ার করে আমাদের সাথে।
তিনি বলেন, নিয়মিতভাবেই তথ্য পেয়েছি। উজানে পানি বাড়ছে অন্তত একদিন আগে থেকেই আমরা জানতাম। তবে ভারতের বাঁধের ব্যাপারে কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমাদের সাথে নদ-নদীর পানির বিষয় শেয়ার করা হয়। কিন্তু বাঁধের কোন বিষয় শেয়ার করা হয় না। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কিছুটা বেড়েছে এবং বৃহস্পতিবার পাঁচ থেকে ছয়টি জেলা বিপৎসীমার উপরে আছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ বছরের বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হবে এমন পূর্বাভাস এ বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত আবহাওয়া বিষয়ক এক সম্মেলনে দেওয়া হয়েছিল। সম্মেলনে বলা হয়েছিল, পুরা বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হবে। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই ছিল।









