দুধের রং সাদা বলেই আমরা জানি। কিন্তু দুধের রং সাদা থেকে যদি হঠাৎ কালো হয়ে যায়, আশ্চর্য হবেন নিশ্চয়ই। হওয়ারই কথা। জানা যায়, গরু অথবা ছাগল নয়, তবে চারপায়ের এমন এক প্রাণী রয়েছে, যাদের থেকে কালো রঙের দুধ পাওয়া যায়। সন্তান প্রসবের পরেই কালো রঙের এই তরল তার শরীর থেকে নিঃসৃত হয়।
আফ্রিকায় এক বিশেষ ধরনের গন্ডার পাওয়া যায়, যার গায়ের রং কুচকুচে কালো। এই কালো গন্ডারের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘ডাইসেরস বাইকর্নিস’। কালো স্ত্রী গন্ডারের শরীর থেকেই কালো রঙের দুধ নিঃসরণ হয়। তবে উপাদানের নিরিখে সাদা দুধের সঙ্গে কালো দুধের বিস্তর ফারাক রয়েছে।
গবেষণায় জানা গেছে, কালো স্ত্রী গন্ডারের শরীর থেকে যে দুধ পাওয়া যায় তাতে জলের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। ফলে সাদা দুধের চেয়ে এর ঘনত্ব অনেকটাই কম। শুধু ঘনত্বের দিক থেকেই নয়, কালো দুধে ফ্যাটের পরিমাণও অত্যন্ত কম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই দুধে ফ্যাটের পরিমাণ ০.২ শতাংশ।
২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, কালো দুধের ঘনত্ব কম হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে কালো স্ত্রী গন্ডারের ধীর গতির প্রজননচক্র। সাধারণত জন্মের পর চার থেকে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলে কালো স্ত্রী গন্ডারেরা সন্তান প্রসবে সক্ষম হতে পারে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কালো স্ত্রী গন্ডারেরা অন্তঃসত্ত্বা থাকে। এক বারে একটি মাত্র সন্তানেরই জন্ম দিতে পারে তারা।
শুধু সন্তানধারণের জন্যই নয়, সন্তান পালনের ক্ষেত্রেও বেশি সময় লাগে কালো স্ত্রী গন্ডারের। সাধারণত সন্তান প্রসবের পর দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে সন্তান পালন করে তারা।
সন্তান প্রসবের পর থেকেই কালো রঙের দুধ সন্তানকে পান করানো শুরু করে কালো স্ত্রী গন্ডার। দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই দুধ নিঃসৃত হতে থাকে।
গবেষকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কালো স্ত্রী গন্ডারের শরীর থেকে দুধ বার হওয়ার কারণে পুষ্টিগত দিক থেকে তা উন্নত নয়। সে কারণেই কালো রঙের দুধে ফ্যাট এবং প্রোটিনের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।









