প্রকাশিত হয়েছে বোরহানুল হক সম্রাট এর বই ‘যে আদালত বসে না কোথাও’। এর প্রচ্ছদ করেছেন অপূর্ব খন্দকার। আল-হামরা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির দাম রাখা হয়েছে ৩৫০ টাকা।
সাংবাদিকেরা নাকি সমাজের আয়না। লেখক সেই আয়না হওয়ার কাজটি করতে যেয়ে দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে অর্জন করেছেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা। কখনো সম্মুখীন হয়েছেন রূঢ় বাস্তবতার। সেই ঝুলি থেকে তুলে ধরেছেন নানান ঘটনার প্রবাহ। সাথে যোগ হয়েছে তার অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন উপলব্ধি।
এই বইটিকে মোটা দাগে নাগরিকের সাথে রাষ্ট্রের করা চুক্তির স্বরূপসন্ধানও বলা যায়। যেখানে উঠে এসেছে দেশের প্রচলিত ব্যবস্থার ভেতরে ঘুন পোকার মত লুকিয়ে থাকা অনিয়ম অনাচারের কথা। রয়েছে অযাচিত আশা। আছে সমাধানের প্রত্যাশাও।
এই দেশটা নিয়ে যারা ভাবেন, তাদের জন্য বইটি চিন্তার নতুন নতুন দুয়ার খুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। উন্মোচিত হবে নতুন নতুন চিন্তা বিকাশ ও গবেষণার পথ।
সাংবাদিক বোরহানুল হক সম্রাটের লেখায় আছে সময়ের সুবিধাভোগীদের দাপটের চিত্র। বিত্তের প্রভাবে পাল্টে যাওয়া মানুষের মুখ। আছে সুবিধাভোগীদের বিভক্তিকর অবস্থান। শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা লেখালেখির একটা প্রধান বিষয়। এ নিয়ে সম্রাটের কলম চলেছে সুনির্দিষ্টভাবে। আছে হাহাকার। একেকটা ভুল নিয়োগের অভিঘাত। আছে মেরুদণ্ডহীনতার প্রলাপ। আছে প্রত্যাশিত আচরণের আকাঙ্ক্ষা। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি প্রচেষ্টাকে সমালোচনা করেছে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ থেকেই তুলে ধরেছে এ খাতের অযাচিত কিছু আয়োজন যা না হলে লাভ-ক্ষতির হিসেব আজ পাল্টে যেত।
করোনাকাল বিদায় নিলেও তার ক্ষতগুলো জমে আছে ওর লেখায়। ন্যয়বিচারের ক্ষুধা সম্রাটের আগেও ছিল। লেখাগুলোতে যা তার মতো করেই বার বার ফিরে এসেছে। সাহসী এসব সমালোচনায় ব্যক্তি, সমাজ, সরকার বা রাষ্ট্র সবাই লাভবান হতে পারেন যদি তাকে সেভাবে দেখা হয়। সম্রাট সেই আকাঙ্ক্ষাই তার কলমে রেখেছে।









