চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিষেধাজ্ঞাতেও চলছে গণপরিবহন, জানে না পুলিশ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচলের উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ প্রায় সবকিছু চলতে দেখা গেছে প্রায় স্বাভাবিক নিয়মে। 

বিজ্ঞাপন

যান চলাচলের বিষয়ে ঢাকা উত্তরের ট্রাফিকের জয়েন্ট কমিশনার মুসলে উদ্দিন আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইন-কে বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক বলতে দুরপাল্লার যানবাহন শুধু চলাচল করছে। আর কিছু ইমার্জেন্সি গাড়ি চলছে। এছাড়া আর কোনো যানবাহন চলছে না।

রাজধানীর মহাখালি, ফার্মগেট ও বাড্ডা এলাকা সরেজমিনে ঘুরে সেসব এলাকার প্রায় সব লোকাল বাস চলতে দেখা গেছে। এছাড়া সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচলও করছে অনেকটা স্বাভাবিক হারে। বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সিএনজি চালকদের থামিয়ে দিলেও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সিএনজি চালক।

নাবিস্কো মোড়ে অবস্থান করা সিএনজি চালক কামরুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জায়গায় জায়গায় আমাদের আটক করছে পুলিশ। তবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিলে ছেড়ে দিচ্ছে,  না হলে আটকে দেয়া হচ্ছে কাগজ।

আরেক সিএনজি চালক রায়হান জানান, যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমি জানতাম না। আর তাই সকাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাকে গুনতে হয়েছে ১০০০ টাকা।

লোকাল বাসগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাস চলাচল করাতে অভিযোগ রয়েছে বাড়তি ভাড়া আদায়েরও।

বিজ্ঞাপন

উজান ভাটি পরিবহনের চালক সালাম বলেন, মালিক মানা করে নাই, তাই আমরা বাস নিয়ে বের হয়েছি। তবে রাস্তায় পুলিশ আটক করলে টাকা দিলে কোনো ঝামেলা হচ্ছে না।

বাড়তি ভাড়া বিষয়ে অফিসগামী একযাত্রী জানান, ঢাকা উত্তরে বাসা হলেও তার অফিস ঢাকা দক্ষিণে। অফিস বন্ধ নেই তাই বাধ্য হয়ে কিছুটা বাড়তি ভাড়া দিয়ে হলেও যেতে হচ্ছে।

নির্বাচন উপলক্ষে এদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও সরকারি ছুটি থাকায় রাস্তায় মানুষের চলাচল কিছুটা কম দেখা গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ দুই সিটিতে টানা ভোট গ্রহণ চলবে।

ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, ইজিবাইক এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন যন্ত্রচালিত যানবহন চলাচল করতে পারবে না।

এ ছাড়া ২৬ তারিখ রাত থেকে ১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মহাসড়ক ছাড়াও আন্তঃজেলা ও মহানগরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক এবং প্রধান প্রধান সংযোগ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইসির অনুমতিসাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া কতিপয় জরুরি কাজ যেমন: অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চলাচলও এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।