চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

২১ মিনিটের যুদ্ধবিমান অভিযানের পর ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি

ভারত-পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখা (LOC) পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসে ভারতীয় যুদ্ধবিমান প্রায় ২১ মিনিটের অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের পরে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকালে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযানের বিস্তারিত জানিয়েছেন। অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে অনেক শীর্ষ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান পাক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে।

প্রায় ২১ মিনিট ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আকাশে ছিল ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলি। ওইসময়ের মধ্যে চকোটি ও মুজাফ্ফারাবাদে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, অভিযানে বালাকোট, চাকোটি এবং মুজফ্‌রাবাদে জইশ-ই-মহম্মদের তিনটি লঞ্চপ্যাড ও কন্ট্রোল রুম আলফা-৩ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশ।

ভারতীয় বাহিনীর এই অভিযানে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেনন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় বিমানসেনা পাইলটদের সালাম জানাই।”

বিজ্ঞাপন

টুইট করেছেন মমতা ব্যানার্জিসহ আরও অনেক ভারতীয় নেতৃবৃন্দ।১৯৭১ সালের পরে এই প্রথম ভারতীয় বিমান পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চালালো বলেও জানিয়েছেন ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জরুরি বৈঠকে বসেছেন বলে পাক গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

এ অভিযান বিষয়ে পাকিস্তান আইএসপিআর প্রধান মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করেছে ভারতীয় বিমানসেনা। পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে পড়ে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলি ফিরে গেছে। এই হামলায় বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

পাকিস্তান আইএসপিআরের পক্ষ থেকে কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে টুইটারে।

বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করেছেন দুইদেশের সাধারণ জনগণসহ দায়িত্বশীল অনেকে। এই অভিযানের পর উভয়দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের উপরে আত্মঘাতী জঙ্গি  আক্রমণে প্রাণ হারান ৪০ জন ভারতীয় আধা সেনা। যা নিয়ে শোকে কাতর হয়েছিল পুরো ভারত।

সেই সময় থেকেই পালটা বদলা নেওয়ার দাবি ওঠে। পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার বদলা কেন নেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে ভারতজুড়ে। লোকসভা নির্বাচনের আগে যুদ্ধের জিগির তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে।