চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অক্টোবরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলকে সুসংহত করার অংশ হিসেবে শুরুতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে গত রোববারের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সম্মেলন সফল করতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর দু’জন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক থেকে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রোববার বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সব ঠিক থাকলে, শুক্রবার (৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক থেকে বিভক্ত ঢাকার দুই সংগঠনিক অঞ্চল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সম্মেলন সফলে সমন্নয়কের দায়িত্ব পালনের জন্য ড. আবদুর রাজ্জাক এবং কর্ণেল (অব.) ফারুক খান নাম কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দু’নেতা ২০০৮ সাল থেকেই ঢাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভূমিকা রেখে আসছেন।

গত শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সভায় জাতীয় সম্মেলন সফলে ৮টি পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সভা থেকে কমিটিগুলোতে কার কী ভূমিকা থাকবে, তা নির্ধারণের জন্য সম্পাদকমণ্ডলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একদিন বাদে রোববার আনুষ্ঠানিক বৈঠক কমিটিগুলোর খসড়া চূড়ান্ত করে সম্পাদকমণ্ডলী। যা এখন কার্যনির্বাহী পরিষদের টেবিলে। অনুমোদনের পর শুক্রবার অনুষ্ঠান ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানোর কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জাতীয় সম্মেলনের আগে খুব একটা সময়ও পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়টাকে সম্মেলনের জন্য সম্ভব্য সময় ধরা হয়েছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এ সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে তৃণমূলের সকল মেয়াদত্তীর্ণ কমিটি গুলোতে পুনরায় সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং সম্মেলনে আগত কাউন্সিলরদের তালিকা ঠিক করে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

এজন্য সর্বোচ্চ একমাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির চেয়ে বেশি সময় নেতাদের দেওয়া হবে না বলে দলীয় সভাপতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলটির দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনই আভাস পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ অর্থাৎ ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৩ বছর মেয়াদে সভাপতি পদে পুননির্বাচিত হন শেখ হাসিনা এবং প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। রাজনৈতিক মহলে বহু মিথের জন্মদিয়ে ওইপদে ওবায়দুল কাদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে সরকারের ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের ঘোষণা এবং ২০২১’এ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মতো বৃহত রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচি রয়েছে। সব মিলিয়ে এর আগেই সংগঠনকে গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

ক্যালেন্ডারের পাতায় সম্মেলন হতে সাত মাস বাকি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় পাচ্ছেন না দায়িত্ব প্রাপ্তরা। কেননা, রীতি মেনে শোকের মাস আগস্ট এবং রোজার মাসে কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না আওয়ামী লীগ। আবার মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদতো রয়েছেই। সেহিসেবে দলীয় সভাপতির নির্দেশনা মেনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় থাকবে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস।

এ সময়ের মধ্যে দলের চাহিদা মতো তৃণমূলকে গুছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কিছুটা সন্দিহান হলেও আত্মবিশ্বাসের ভাষায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একাধিক নেতা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন: আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিলো আরও কিছু দিন আগ থেকেই। কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতায় আমরা মানসিকভাবে গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আমাদের হাতে সময় খুব বেশিও নেই। এই সময়ের মধ্যে কষ্টসাধ্য হলেও শতভাগ দায়িত্ব পালনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

জাতীয় সম্মেলনের এ সাংগঠনিক মহাযজ্ঞ তদারকির ভার রয়েছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের। ওবায়দুল কাদের সুস্থ হয়ে ফিরে আসা এবং তার শারীরিক সক্ষমতা ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্বে থাকবেন।