চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১৬২ বছর বয়সে যে রিপাবলিকানের মৃত্যু

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে পরলোকে রিপাবলিকান পার্টি। ১৬২ বছর বয়সে মঙ্গলবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে রক্ষণশীল ভোটারদের দল হিসেবে পরিচিত এই জোট। দলটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতায় ভুগছিলো।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিয়্যালিটি শো তারকা ও হোটেল ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগাম বাছাই এর খবর সইতে পারেনি তার রুগ্ন শরীর। তাই এই আকস্মিক মৃত্যু। মার্কিনীদের প্রতি ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ডাক ‘মেইক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন’-ডোজও কাজ করেনি রিপাবলিকান শরীরে।

১৮৫৪ সালে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের রিপন-এর একটি স্কুলঘরে জন্ম রিপাবলিকান পার্টির। তার পূর্বসূরীরা ছিলেন সাবেক হুইগ পার্টির সদস্য, মার্কিন মুলুকে দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখতে যারা সংগ্রাম করে গেছেন আজীবন। রিপাবলিকান পার্টিকে পরে আদর করে ডাকা হলো ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ বা ‘জিওপি’ নামে।

১৮৬১ সালে আব্রাহাম লিংকনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বেশ  পোক্ত অবস্থান পায় জিওপি। আর বিশ শতকের শুরুতে জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ার। ১৯০১ থেকে ’১৩ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদ তারই দখলে। এরপর কিছুটা ভাটা।

২০-এর দশকে মার্কিন অর্থনীতির মন্দায় বিষণ্নতায় পড়ে রিপাবলিকান পার্টি। ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের চালাকিতে ‘নিউ ডিল’ কোয়ালিশনের কারণে স্বাস্থ্য বেশ ভেঙ্গে পড়ে জিওপির। এ দফায় সেরে উঠতে বেশ সময় লাগে। তবে ছিলো উঠে দাঁড়াতে সুযোগের অপেক্ষা।

বিজ্ঞাপন

নাগরিক অধিকার আইন প্রশ্নে ষাটের দশকে রক্ষণশীল সাউদার্ন ডেমোক্র্যাটরা যোগ দেয় রিপাবলিকানে। এই সুযোগে চাঙ্গা হয়ে উঠতে থাকে জিওপি। কিন্তু পরপরই আবারো স্বাস্থ্য খারাপ। রিপাবলিকানকে দীর্ঘ চিকিৎসা দিয়ে সারিয়ে তোলা কট্টরপন্থী ব্যারি গোল্ডওয়াটারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় আর নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিই ওইবারের অসুস্থতার কারণ। তারপরও নানা সময় টিভি রিয়্যালিটি শো আর গ্ল্যামার লেডি সারাহ প‍ালিনসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকেই ছিলো রিপাবলিকান।

এভাবে নানা রোগ শোকের (?) মধ্যেও বার বারই সুস্থ করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। আশির দশকে ভঙ্গুর রিপাবলিকান পার্টিকে কিছুটা শক্ত অবস্থানে নেন রোনাল্ড রিগ্যান। ধর্মীয় রক্ষণশীল আর ট্যাক্স ফাঁকি দিতে পছন্দ করা পুঁজিবাদীদের এক করে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মাল্টিপল অর্গ্যান ফেইলিওরের কারণে ২০০৯ সালে লাইফ সাপোর্ট হিসেবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মানে গোঁড়া রিপাবলিকানদের নিয়ে গঠন করা হয় টি-পার্টি।

কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিছুটা আশা জাগালেও নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাই এ গিয়ে অ‍াসে চরম অ্যাটাক। টেড ক্রুজ এবং জন কাশিসের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিউমোনিয়ার মতো অ্যাটাক করে বসে রিপাবলিকানকে। ৩ মে রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রিপাবলিকান পার্টি।

টুইট বার্তায় পার্টি চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন দুঃসংবাদটি। হিলারি ক্লিনটনকে হারাতে একসাথে হওয়ার আহ্বানের ছোট্ট বার্তাও জুড়ে দেন শোক সংবাদের পাশে।

পরলোকে গেলেও রোনাল্ড রিগ্যানের ঝাপসা ছবি, নির্বাচনী সীমানা নিয়ে কোন্দল আর ‘স্যাড’ শব্দটির মাঝে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে রিপাবলিকান পার্টি।

(কয়েকটি মার্কিন পত্রিকা অবলম্বনে)