চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১১ মাস কারাবাসের স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

“জেলে বসে আমি বাংলাদেশের কোন কোন সেক্টরে উন্নয়ন করা যায়, তা আমি নোট পেডে লিখে রাখতাম।”  ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে দীর্ঘ ১১ মাস কারাগারে থাকার দিনগুলি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে কার্যনির্বাহী সংসদ সভায় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ মাস কারাগারে থাকার সময় আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এলার্জির কারণে আমার চোখ অন্ধ হতে বসেছিল। ফুপু একদিন দেখা করতে গেলে, তাকে বললাম আমার চোখের সমস্যার কথা। এরপর ফুপু নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বললে জনগণের চাপে আমাকে চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিজ্ঞাপন

সেই সময় তাকে নানা চাপ সামাল দিতে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কারাগারে আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম না। বহু লোভ দেখানো হয় আমাকে, বাংলাদেশে যেনো কোনো নির্বাচন না হয়। আমাকে বলা হয়, আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া। তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমার বাবা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হয়েছে, আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি আমার কোনো সুযোগ সুবিধার দরকার নেই। আমার শুধু দরকার প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার। যেই পাওয়ার দিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণ করতে পারব, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কারাগারে যখন গিয়েছিলাম তখন মনে একটা আত্মবিশ্বাস ছিলো, আমি বের হলেই দেশে নির্বাচন হবে আর তাই জেলে বসেই নোট পেডে বাংলাদেশকে কিভাবে এগিয়ে যাবে তার পরিকল্পনা লিখে রাখতাম। এরপর যখন কারাগার থেকে বের হলাম নির্বাচন হলো। আওয়ামী লীগ জয়ী হল সেই পরিকল্পনা সঙ্গে আরো নতুন কিছু যোগ করে কাজ  শুরু করে ছিলাম।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,আন্তজার্তিক মহল, তৃণমূল নেতাকর্মী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনের চাপে আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সেনা সমর্থিত সরকার।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে বলেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতিহারে বাংলাদেশের রূপবদলের ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।