চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

বৈশাখের কথা মনে আসলেই দুটি বিষয় চোখে ভেসে ওঠে। আর তা হলো-গ্রামাঞ্চলে বৈশাখ মানে বৈশাখী মেলা এবং রাজধানীতে বৈশাখ মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং চারুকলা অনুষদের এবারের বৈশাখী আয়োজনের নানা দিক নিয়ে কথা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডীন নেসার হোসেনের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরুটা ‍নিয়ে কিছু বলুন।

মঙ্গল শোভাযাত্রার শুরুটা হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনকে কেন্দ্র করে এর সূত্রপাত। আসলে এই সময়ে জনগনের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, অমঙ্গলকে দূর করার প্রত্যয় থেকেই এর সূচনা।

এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল বিষয় কী?

শোভাযাত্রার মূল বিষয় আসলে একটাই। তা হলো সকল অমঙ্গলকে দূর করে, মঙ্গলকে আহ্বান জানানো। ‘মঙ্গল আলোকে সত্য সুন্দর’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে গানের মাধ্যমে যা বলতে চেয়েছেন, আমরা বাস্তবে তাকেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় আপনারা কী কী ফুটিয়ে তুলবেন?

হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আমরা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি। এর মধ্যে লোকশিল্প এবং সমসাময়িক বিষয়ও থাকে। গণজাগরণ মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির ক্ষেত্রে ঘাতকের দানবাকৃতি মূর্তি এবং বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জয়ে সমুদ্রের নৌযানকে ফুটিয়ে তুলেছি। থাকছে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্যাপা পুতুল, নর-নারী ও শিশুর ভঙ্গি, অসংখ্য ফুল এবং পাখি যা আনন্দের প্রতীক।

মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি কেমন হয়েছে?

খুবই ভালো। গত কয়েক দিন যাবৎ আমার ছেলেমেয়েরা কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারব।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গল শোভাযাত্রায় নববর্ষের সূর্যকে কীভাবে ফুটিয়ে তুলবেন?

আসলে সূর্য হবে নববর্ষের মঙ্গলময় সূর্য। যার অর্ধেকটা উজ্বল থাকবে। যা হবে তারুণ্যের প্রতীক। বাকিটা অন্ধকার থাকবে, যা ‍দিয়ে ক্রান্তিকাল বোঝানো হবে। আর উজ্বল অংশের স্পর্শেই অন্ধকার দূর হবে।

১৪২৪ সালের অর্থাৎ এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা কখন শুরু হবে ?

মুল শোভাযাত্রা শুরু হবে সকাল ৯টায় যা চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে। নেতৃত্ব দিবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বলুন।

সব কিছুই হবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের যথেষ্ঠ সহযোগিতা করছে। তাদের প্রতি আমাদেরও আস্থা রয়েছে।

পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা তো ‘স্পর্শাতীত বা অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’র মধ্যে অন্যতম। এ ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি?

অনুভূতি অবশ্যই আনন্দদায়ক। এ ব্যাপারে আমাদের সকল প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। এটা আমাদের জন্য গর্বেরও।

ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।