চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সড়কে মৃত্যুর জন্য দায়ী ওবায়দুল কাদের ও শাজাহান খান: রিজভী

বিজ্ঞাপন

সড়কে দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিলের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলে দায়ী বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একইসঙ্গে সরকারের অনাচারমূলক নীতিও তার জন্য দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এসময় সড়ক দুর্ঘনায় মৃত্যুর একটি পরিসংখ্যানে দেখিয়ে রিজভী বলেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন সড়কে গড়ে নিহত হচ্ছে ২০ জন। গত সাড়ে তিন বছরে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৫ হাজার মানুষ। আহত হয়েছেন ৬২ হাজার মানুষ। 

শনিবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার নিরাপদের সড়কের জন্য কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিভিন্ন সংগঠন যখন আন্দোলন করছিল, নৌমন্ত্রী তখন আন্দোলনকারীদের উপর লেলিয়ে দিয়েছিল তার পোষা শ্রমিকদের।

‘‘তখন তিনি বলেছিলেন, রাস্তায় গরু ছাগল চিনতে পারলেই তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সরকারও তার দাবি মেনে নিয়ে শাজাহান খানের বাহিনীকে উৎসাহ দিয়েছিল। তাই গরু ছাগল বাচাঁতে গিয়ে আজ শিশু কিশোরসহ সব বয়সী মানুষদের বাসের চাকার নিচে ঠেলে দিয়েছে শাহজাহান খানরা, থামেনি সড়কে মৃত্যুর মিছিল।’’

তিনি বলেন, গতকালও দেখা গেছে কিভাবে মগবাজারে বাস পিষে মারল এক যুবককে, টাঙ্গাইলে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রীকে, ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হলো আরও ৪ জন, এছাড়াও কুমিল্লায় আরেক ছাত্রীসহ গতকাল সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হলো আরও ১০ জন।

রিজভী অভিযোগ করেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর গতকালও হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল ধানমন্ডিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সাংবাদিকরা হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিয়.কমের অফিসে। তাদের অফিসে ব্যাপক ভাংচুরও করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা হয়। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি। 

রিজভী আরো বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেজন্য আজ রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে মনিটরিংয়ের নামে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। যদি আওয়ামী লীগ এ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে তাহলে জনগণ ও অভিভাবকরা তাদের ক্ষমা করবে না, এর পরিণাম শুভ হবে না। ভোটারবিহীন সরকারকে শুধু জনগণই নয়, শিশু থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথী পর্যন্ত সকল স্তরের শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মন্ত্রীদের নির্দেশে আজকেও দেশব্যাপী গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কষ্ট দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই গণপরিবহন বন্ধ করেনি। মূলত: পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যকারীদের হুকুমেই পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকের আন্দোলনে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে অবস্থান করছে। তারপরও ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন বেগবান। তারা বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের এই অনবদ্য ভূমিকা ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের এই অভিনব প্রতিবাদ যেন অত্যাচারিত জনগণের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ।