চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি: নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় পপি

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত‌্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক উম্মে সুলতানা পপি (শম্পা) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম তাদের আদালতে উপস্থিত করেন।

এরপর পপি শম্পা আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, নুসরাতের তার বান্ধবী নিশাতকে কেউ মারছে এটা বলে পপি নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। পরে অন‌্য সহযোগীরা মিলে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দির ব্যাপারে রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো: ইকবাল জানান: কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পপি এ হত‌্যাকাণ্ডর ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ‌্য দিয়েছে। তার এ জবানবন্দিতে নতুন কিছু নামও উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করা যাবে না।

এর আগে উম্মে সুলতানা পপিকে ১০ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে আটক করা হয়। এরপর ১১ এপ্রিল সুলতানা পপিকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। রিমান্ড শেষে সে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়।

এ হত‌্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ায় এজাহারের আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে এ দুই জনের নাম উল্লেখ করেন। তারা জানায় জাবেদ ও পপি সরাসরি কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে। জাবেদ নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় আর পপি হাত-পা চেপে ধরে ওড়না দিয়ে বেধে ফেলে। এসময় তাদের সাথে আরো তিনজন ছিলো। নুসরাতের হত‌্যাকাণ্ডের দিন পপিকে পরিচয় গোপন করে শম্পা নামে ডেকেছিল হত্যাকারীরা। নুসরাত মৃ্ত‌্যু শয্যায় জবানবন্দিতে এ শম্পার নাম উল্লেখ করেছিল।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত এজাহারের ৮ জন গ্রেপ্তারসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৪ জন। ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেয়া হয়। সর্বশেষ এ ঘটনায় জড়িত থাকায় আটক হয়েছে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।