চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর: কোথায় রাখতে হবে চোখ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফরে জাতিসংঘে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনা এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে জোর দিতে হবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, এই সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে পারলে তা হবে বর্তমান সরকারের আকাশচুম্বী কূটনৈতিক সাফল্য।

বিজ্ঞাপন

জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠানো এবং এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বাধীন ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে কী আলোচনা হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ৫ দফা বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই ৫ দফা নিয়েই আমাদের কথা বলতে হবে। এই ৫ দফা বাস্তবায়ন হলেই সমস্যার সমাধান হবে।

এছাড়া নিঃশর্তভাবে অবিলম্বে কফি আনান কমিশন রিপোর্টের পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও জানান সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান

‘রাখাইনের জনগণের শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে’ রাখাইনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিকত্ব, চলাফেরার স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সহায়তায় প্রবেশাধিকার, গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাদক, সাম্প্রদায়িক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব, আন্তঃসাম্প্রদায়িক পছন্দের অধিকার, আন্তঃ সাম্প্রদায়িক সংহতি, নিরাপত্তা খাত, ন্যায়বিচার, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ইস্যু এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সম্পর্ক পয়েন্টে সুপারিশ করা হয়েছে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে রাজি হয়েছেন জানিয়ে সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব বলেন: কফি আনান কমিশন রিপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হলো, জাতিসংঘকে আমাদের চুক্তির বাস্তবায়নে সাথে থাকতে হবে। এটা আমাদের জন্য মূল্যবান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানরা সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা প্রকাশ করে ওয়ালিউর রহমান বলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাচ্ছেন আমি আশা করব, সেখানকার সেনাপ্রধানরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলবেন। রাখাইনে কী সমস্যা হচ্ছে সেনাপ্রধানদের তা পরিস্কার করতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটে নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান বলেন: প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছিলেন আমরা শান্তির পক্ষে, আমরা মানবতার পক্ষে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। আপনারা আপনাদের জনগণ ফেরত নিয়ে যান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হলে তা হবে বর্তমান সরকারের আকাশচুম্বী কূটনৈতিক সাফল্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে সোমবার দুপুরে মিয়ানমার যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।

অং সান সু চির হাতে সুপারিশমালা তুলে দিচ্ছেন কফি আনান

প্রতিনিধিদলে আছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সচিব (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) শামছুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব হারুনুর রশীদ বিশ্বাস, উপসচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস্‌ ও ইন্টেলিজেন্স) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু।

প্রতিনিধিদল প্রথমে বিমানযোগে ইয়াঙ্গুনে যাবেন। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর বিমানযোগে নেপিডো যাবেন তারা। রাতে নেপিডোতে অবস্থান করে মঙ্গলবার সকালে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এরপর সেখান থেকে তারা আবার ইয়াঙ্গুন হয়ে ২৫ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।