চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্ন’

মাঝে একা ঘাসে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন ফুটবল জাদুকর। এবারও হল না। নিস্তব্ধ কাজানে শ্মশানের নীরবতা। গ্যালারিতে সমর্থকরা ভাষা হারিয়েছেন। ভাষা হারা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা সমর্থকরাও। মাঠে শবযাত্রীদের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে নীল-সাদা জার্সিধারীরা। এক কথায় শোকস্তব্ধ সবাই।

বিজ্ঞাপন

চারটা বিশ্বকাপ খেলে আবারও অধরা রয়ে গেল বহুসাধের সোনার ট্রফি। এ যন্ত্রণা ‘মৃত্যুশোকের’ থেকেও ভয়াবহ। মেসি যেন পাথর হয়ে গেছেন। সারা বিশ্বও তার মতোই। তবে পাথরের চেয়েও যেন পাথর তার দেশ আর্জেন্টিনা।

প্রথম রাউন্ডের দুই ম্যাচ পর মেসিদের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েছিল সমর্থকরা। তখন হতাশা-ক্ষোভ মেশানো প্রতিক্রিয়া ছিল আর্জেন্টিনার পত্রিকায়।

তবে নাইজেরিয়া ম্যাচের পর আবার স্বপ্ন দেখেতে শুরু করে আর্জেন্টাইনরা। কিন্তু ফ্রান্সের কাছে হারের পর দেশটির পত্রিকায় শুধুই স্বপ্ন ভঙ্গের ছবি। আর্জেন্টাইনদের মনের ব্যথা ফুটে উঠেছে সংবাদপত্রগুলোর ছোট ছোট শিরোনামে।

বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা ‘ওলে’ শিরোনাম করেছে, ‘স্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্ন’। শিরোনামের নিচে লিওনেল মেসি মাথা নিচু করে থাকা বড় একটি ছবি।

দেশটির আরেক পত্রিকা ‘ক্লারিন’র শিরোনাম, ‘ফ্রান্সের কাছে পরাজিত আর্জেন্টিনা। বিদায়ের পর রাখল শুধু বিমর্ষ চিত্র’।

আরেক বড় পত্রিকা ‘লা নাসিওনে’র শিরোনাম ‘২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্সে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আর্জেন্টিনা’।

ইনফোবে পত্রিকার শিরোনামও বেশ সাদাসিধে, ‘আর্জেন্টিনা বাদ: ফ্রান্সের ৪-৩ গোলে জয় এবং আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্ন শেষ’। পাজিনা-১২ লিখেছে, ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’।

স্বাভাবিকভাবেই উল্টো চিত্র ফরাসি মিডিয়ায়। লে’কিপ দুই শব্দে শিরোনাম করেছে, ‘কি উন্মাদনা!’।
লা পার্সিয়ানও ছোট শিরোনাম করেছে। তারা লিখেছে, ‘ফ্রান্সের দর্শনীয় পারফরম্যান্স’।