চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-চ্যানেল আই এগ্রো অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু ১০ মে

আগামী ১০ মে থেকে শুরু হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-চ্যানেল আই এগ্রো অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এর মনোনয়ন প্রক্রিয়া। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গত চার বছর ধরে এই অ্যাওয়ার্ড দিয়ে করে আসছে। এই অ্যাওয়ার্ডের পঞ্চমবারের উদ্যোগে যুক্ত হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল আই।

বিজ্ঞাপন

দেশের কৃষি ও কৃষকদের আরো বেশি উৎসাহিত করতে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া করা হচ্ছে বলে জানালেন উদ্যোক্তারা।

রোববার রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের পার্ল রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রক্রিয়াসহ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও নাসের এজাজ বিজয় ও প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিটপী দাস চৌধুরী প্রমুখ।

চ্যানেল আইয়ের সাথে যুক্ত হওয়ায় এ বছর আরও বড় পরিসরে অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন নাসের এজাজ বিজয়।

এই অ্যাওয়ার্ড কেন? এবং চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে কেন যুক্ত হলেন সে বিষয়ে তিনি বলেন বলেন, তিনটি চেতনা থেকে  অ্যাওয়ার্ডের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রথমত দেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব।  ভবিষ্যতের সাফল্য্যের শেকড় অতীতের চালিকাশক্তি। আজকে আমরা যেন অবস্থানে তা কৃষির কল্যাণে।  তাই এই খাতকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। যা আমাদের মূল্যবোধেরও অংশ। আর চ্যানেল আই এক্ষেত্রে অসম্ভব সম্মানিত। চ্যানেল আই কৃষি ক্ষেত্রে যে অবদান রেখে চলেছে, তা অনন্য।  এই উদ্যোগে চ্যানেল আই  আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করায় ধন্যবাদ।

চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত এই উদ্যোগ দেশের কৃষকদের উৎসাহিত করবে, কৃষকদের আরো বেশি কাছাকাছি নিয়ে আসবে। আমরা কৃষকদের আরো বেশি সম্মানিত করতে চাই। তাদের কাছাকাছি যেতে চাই। এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা  সহযোগিতা করলে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো।’

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এগ্রো অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় এবং চ্যানেল আইকে যুক্ত করায় স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ অসম্ভব রকমের বড়। সেই কারণে এ ধরনের সম্মাননা দিয়ে কৃষকদের ও কৃষি কাজকে প্রণোদনা ও উৎসাহ দেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের কৃষির যে উন্নয়ন ঘটেছে তা অবিস্মরণীয়।  কোনো সন্দেহ নেই।  কিন্তু সামনের চ্যালেঞ্জ অন্যরকম। এই সময় অনেক উদ্ভাবন হবে। এই উদ্ভাবন কৃষক, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে।  সবকিছু মিলিয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এই পরিবর্তন যারা জয় করতে পারবে, তাদেরকে সম্মানিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

শাইখ সিরাজ আরো বলেন, শিল্প বিপ্লব, কৃষি বিপ্লবের পর এখন আবার নতুন ধরনের বিপ্লব আসছে। যার সঙ্গে সম্পৃক্ত কমার্শিয়াল এগ্রিকালচার। এটার সাথে যুক্ত প্রসেস, রপ্তানি।  অনেকগুলো বিষয় মিলিয়ে কৃষিতে একটি ব্যাপক পরিবর্তন আসছে।  এই পরিবর্তনের সাথে কৃষক, ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম থাকবে।  এই পরিবর্তন মেনে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষদের অনুপ্রাণিত করার নতুন নতুন উদ্যোগ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

শাইখ সিরাজ এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাজ করার অনেক সুযোগ দেখছেন। তিনি এগ্রো অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে কৃষি সাংবাদিকতায় পুরস্কারের ব্যাপারটি সংযুক্ত করার ব্যাপারেও পরামর্শ দেন। কারণ, নতুন নতুন যে প্রযুক্তিগুলো আসছে সেগুলোকে মাঠ  পরিচিত করানোর সাংবাদিকদের সর্বাধিক ভূমিকা দেখেন তিনি।।

সংবাদ সম্মেলনে এগ্রো অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার নিয়ম-কানুন তুলে ধরেন চ্যানেল আইয়ের ড্রামা অ্যান্ড টেলিফিল্ম বিভাগের শহিদুল আলম সাচ্চু।

শুরুতে জানানো হয়, এ বছর আটটি ক্যাটাগরিতে এই কৃষি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে যেমন-ব্যক্তিগত পর্যায়ে সেরা কৃষক (নারী), সেরা কৃষক (পুরুষ), পরিবর্তনের হিরো (ব্যক্তি), জুরি স্পেশাল এবং আজীবন সম্মাননা।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়েছে-কৃষি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিতে সেরা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সহায়তা এবং বাস্তবায়নে সেরা প্রতিষ্ঠান, সেরা কৃষি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

সেরাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১০ মে থেকে। ১৫ জুলাই মনোনয়ন জমাদানের শেষ সময়। আর যাচাই-বাছাই শেষে  ২০ সেপ্টেম্বর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষি খাতে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।

মনোনয়নের নিয়ম
১. প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে শুধুমাত্র গত বছরের কর্মকাণ্ড সংযুক্ত থাকবে। গবেষণা ও সহায়তা সময়কাল হচ্ছে- জানুয়ারি ১, ২০১৮-ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮
২.  শর্তানুযায়ী গত বছরের বিজয়ী পরবর্তী বছরের আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
৩. রপ্তানি ক্যাটাগরিতে বিগত তিন বছরের আর্থিক ডাটা, মূল্যায়ন করা হবে।  সময়কাল ২০১৬-২০১৮।  এই ক্যাটাগরিতে বিজয়ী প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ৩ বছর আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
৪. ক্ষুদ্র ও মধ্যম পযায়ের কৃষক এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এমন কোনো ঘটনা যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে, তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই বছরের অ্যাওয়ার্ডের প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতায় থাকবে দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, স্থানীয় প্রেসক্লাব, চ্যানেল আইয়ের স্থানীয় প্রতিনিধি, দুর্বার (ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ওমেন অর্গানাইজেশন), বিটিভি, বেতার ও কমিউনিটি রেডিও এবং শাইখ সিরাজের নিজস্ব নেটওয়ার্ক।

২০১৪ সাল থেকে কৃষক ও কৃষি কাজকে উৎসাহিত করতে ৭ ক্যাটাগরিতে এগ্রো অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে আসছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ২০১৯ সালে সেই পথে যুক্ত হয়েছে চ্যানেল আই। তাদের লক্ষ্য আরো বড় পরিসরে এই অ্যাওয়ার্ডকে ছড়িয়ে দেওয়া।