চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্কুলছাত্র সাব্বির খালাস, ইউএনও-ওসি প্রত্যাহার

টাঙ্গাইলের ভ্রাম্যমাণ আদালতে স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে দেয়া সাজা আইন বহির্ভূত ঘোষণা করে তাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাব্বিরের বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এছাড়াও সখিপুরের ইউএনও এবং ওসিকে ঢাকা বিভাগের বাইরে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহানকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার পর মাদকদ্রব্য আইনে সখিপুরের পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদার ওরফে হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। স্বপ্রণোদিত হয়ে ইউএনও এবং ওসিকে তলবের পাশাপাশি রুল দেন আদালত।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও এবং ওসির পাশাপাশি ঘটনার বর্ণনা দেন শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদার। বলেন, এমপি সাহেব বললো যে ওকে থানায় নিয়ে যাও। থানায় নিয়ে যাওয়ার ২ দিন পর হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোখে রুমাল বেঁধে ওসির রুমে নিয়ে শোয়ায়ে লাঠি ধরে ওসি বলে যে তোরে ক্রসফায়ার দিবো। মারের চোটে আমি স্বীকার করেছি। তিন দিন পরে টিএনও রুমে নিয়ে আমারে বলছে যে এসব কি লিখছস? পরে টিএনও সাহেব আমাকে বুকে লাথি দিয়ে ফেলে দিছে।পড়ে গেছি পরে কে যেন আমারে ধরে খাড়া করিয়েছে। পরে টিএনও সাহেব আমাকে ২ বছরের সাজা দিয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের অবকাশকালীন বেঞ্চ আদেশ দেন।

শিক্ষার্থীর পক্ষের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, সাব্বিরকে যে সাজাটা দিয়েছিলো, সেটা আদালত বাতিল করে দিয়েছেন এবং তাকে খালাস দিয়ে দিয়েছেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাঙ্গাইলকে মাননীয় আদালত একটি ডাইরেকশন দিয়েছেন। সাব্বির যে বক্তব্যটা দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে একটি জুডিশিয়ারি ইনকোয়ারি করার জন্য। ইউএনও সখিপুর টাঙ্গাইল এবং পুলিশ অফিসার ইনচার্জ সখিপুর টাঙ্গাইলকে ঢাকা বিভাগের বাইরে যেকোনো এক জায়গায় পোস্টিংয়ের কথা বলেছেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানান নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও তার পিতা শাহিনুর মিয়া। রায়ের জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তাও চান তারা। হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে ওসির পক্ষে আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন আর ইউএনওর পক্ষে ছিলেন আইজীবী শ ম রেজাউল করিম। তবে তারা আদেশের পরে কোনো মন্তব্য করেননি।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail