চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকে রিয়ালকে গুঁড়িয়ে ক্ল্যাসিকো জয় বার্সার

লা লিগায় মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বার্সা। পাঁচ গোলের তিনটিই করেছেন সুয়ারেজ। বাকি দুটি কৌতিনহো ও আর্তুরো ভিদালের।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালের পর এইপ্রথম রিয়ালের জালে এত গোল দিতে পারল বার্সা। পেপ গার্দিওলার প্রথম মৌসুমে সেবার ৬-১ গোলে জয় পেয়েছিল কাতালান জায়ান্টরা।

এগারো বছর পর এমন এক এল ক্ল্যাসিকো দেখার অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকরা যাতে থাকবেন না সময়ের দুই মহারথী মেসি ও রোনালদো। তাতে নতুন এক নায়ক দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। রোববার সেই নায়ক হলেন ৩১ বছর বয়সী লুইস সুয়ারেজ। রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে যেন একাই খেললেন বার্সেলোনার উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড!

বার্সার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে প্রথম সুযোগটা এসেছিল রিয়ালেরই। কিন্তু এ মৌসুমে ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতার ধারা বজায় রাখেন করিম বেনজেমা। অষ্টম মিনিটে গ্যারেথ বেলের পাস থেকে সুযোগটা বারের উপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

রিয়াল ব্যর্থ, কিন্তু বার্সা প্রথম সুযোগের ফায়দা তুলেছে ষোলোআনাই। ম্যাচের ১১ মিনিটে প্রতিপক্ষ ডি-বক্সের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে লুইস সুয়ারেজের ব্যাকপাসে পাওয়া বল কোনো বাঁধা ছাড়াই জালে পাঠিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফিলিপে কৌতিনহো।

ম্যাচের ১৯ মিনিটে ব্যবধানটা প্রায় দ্বিগুণ করেই ফেলেছিলেন আর্থার মেলো। রিয়াল খেলোয়াড়দের ভুলে পাওয়া বলে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের জোরাল শট দর্শনীয় কায়দায় ফিরিয়ে লস ব্লাঙ্কোসদের রক্ষা করেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

বিজ্ঞাপন

তাতেও অবশ্য রক্ষা হয়নি রিয়ালের। রাফায়েল ভারানের ছোট্ট এক ভুল ৩০ মিনিটে ডোবায় রিয়ালকে। ২৮ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের ডি-বক্সে ফেলে দেন সুয়ারেজকে। বার্সার পেনাল্টির আবেদন রেফারি প্রথমে কর্ণপাত না করলেও পরে সাহায্য নেন ভিএআর প্রযুক্তির। তাতেই ধরা পড়ে ভারানের ধাক্কাটা ছিল ইচ্ছাকৃত। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে কাতালানদের দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে নেন সুয়ারেজ।

দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মাথায় রিয়ালের হয়ে একটি গোল শোধ করে দেন মার্সেলো। ৫০ মিনিটে গোল বরাবর শট নেন ইস্কো। তার শট বার্সা ডিফেন্ডার ল্যাংলেটের পায়ে লেগে ফিরলে ফাঁকা জায়গায় বল পান মার্সেলো। ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাকের জোরাল শট ফেরানোর সাধ্য হয়নি বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেনের।

গোল পেয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় রিয়াল। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৫৬ মিনিটে সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল দলটি। গোলমুখে জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত এক শট নেন লুকা মদ্রিচ। ক্রোয়েট মিডফিল্ডারের শট বার্সা গোলরক্ষককে বোকা বানালেও ফিরে আসে বারে লেগে।

চার মিনিট পর একইভাবে গোলবঞ্চিত বার্সাও। রাকিটিচের পাসে সুয়ারেজের শট ঠেকিয়ে দেয় গোলবার।

পুরো ম্যাচজুড়ে ব্যর্থ বেনজেমা ৬৮ মিনিটে আরও একবার হতাশ করেন দলকে। লুকাস ভাসকুয়েজের দারুণ এক ক্রস যেভাবে হেডে মাঠের বাইরে পাঠালেন, তাতে ধারাভাষ্যকাররা হাহাকারই করে উঠলেন রোনালদোর জন্য।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বেনজেমাকে শিক্ষা দিতেই দর্শনীয় এক হেডে গোল করলেন সুয়ারেজ। মাঝ মাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে সার্জিও রবের্তোকে পাস দেন জর্ডি আলবা। রবের্তোও বল পায়ে রাখেননি, উড়িয়ে বাড়িয়ে দেন সুয়ারেজকে। সেই বল ধরে উরুগুয়ে তারকা যে হেড করেন তা তুলনা চলে ফ্রি-কিকের সঙ্গেই।

আট মিনিট বাদেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন সুয়ারেজ। ৮৩ মিনিটে রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোসের ভুলের সুযোগ নিয়ে কোর্তোয়ার মাথার উপর দিয়ে জালে বল জড়ান উরুগুয়ে তারকা।

রিয়ালের পোড়া কপালে শেষ পেরেক ঠোকেন আর্তুরো ভিদাল। ৮৭ মিনিটে উসমানে ডেম্বেলের ভলি ধরে জোরাল হেডে ২০০৯ সালের পর রিয়ালের বিপক্ষে কাতালানদের বড় জয় নিশ্চিত করেন বদলি নামা এ চিলিয়ান মিডফিল্ডার।