চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুবীর নন্দীর স্মরণে চ্যানেল আই কার্যালয়ে শোক বই

মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত জগতসহ দেশের পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। সারা দেশের মানুষ প্রিয় শিল্পীর জন্য চোখের জল ফেলছেন। জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে চ্যানেল আইতে রাখা হয়েছে শোক বই।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই পরিবারের সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিলো সুবীর নন্দীর। প্রায়শই তিনি চ্যানেল আইয়ের লাইভ শোগুলোতে গান গাইতে আসতেন। গুণী এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই চ্যানেল আই কার্যালয়ে রাখা হয়েছে বিশালাকার ছবিসহ তার নামে একটি শোক বই।

চ্যানেল আই ভবনে সুবীর নন্দীর স্মরণে রাখা শোক বইয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বার্তা লিখছেন আগত তারকা, ভক্ত ও অনুসারীরা।

গেল ১৪ এপ্রিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুবীর নন্দী। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে সুবীর নন্দীর চিকিৎসার জন্য ৩০ এপ্রিল সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়।

সুবীর নন্দীর মরদেহ এখন সিঙ্গাপুর। বুধবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন তার জামাতা রাজেশ শিকদার।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর সরাসরি গ্রীন রোডের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে সুবীর নন্দীকে। এরপর নয়টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির এবং সকাল ১১টায় সব শ্রেণির মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সুবীর নন্দীর মরদেহ রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এমনটাই জানান রাজেশ।

এক নজরে সুবীর নন্দী:
সুবীর নন্দী, বাংলা সংগীত জগতের কিংবদন্তি নাম। ১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তিনি গান করতেন। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন। তার গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। লোকগানের ওস্তাদ ছিলেন বিদিত লাল দাস। সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। দরদী কন্ঠের আধুনিক বাংলা গানের অবিস্মরণীয় এ কণ্ঠশিল্পী ৪৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান।

চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। এরপর থেকে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। ১৯৮১ সালে তার একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিস্কো রেকর্ডিং এর ব্যানারে বাজারে আসে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে তিনি যুগোস্লাভিয়া, ইংল্যান্ড, সুইডেন, আমেরিকা, আরব আমিরাত, জাপান, নেপাল ও ভারতে সংগীত পরিবেশন করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীতে অবদানের জন্য তিনি চার বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন (মহানায়ক ১৯৮৪, শুভদা ১৯৮৬, শ্রাবণ মেঘের দিন হাজার ১৯৯৯, মেঘের পরে মেঘ ২০০৪)। এছাড়া চার বার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। শিল্পকলা- সংগীতে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুবীর নন্দীকে ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।