চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুর নেয়া হতে পারে এটিএম শামসুজ্জামানকে

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে সিদ্ধান্ত: উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হতে পারে দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে…

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হতে পারে দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে। এরইমধ্যে তাকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান তার স্ত্রী রুনি জামান।

বিজ্ঞাপন

৩০ এপ্রিল থেকে লাইফ সাপোর্টে আছেন দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। মাঝখানে একবার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে অবস্থা বেগতিক দেখে আবারও লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয় তাঁকে। প্রায় ১০ দিনের বেশী সময় ধরে লাইফ সাপোর্টে থাকা এটিএমের উন্নত চিকিৎসার জন্য এবার সিঙ্গাপুর পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

রুনি জামান বলেন, শুক্রবার উনার (এটিএম শামসুজ্জামান) অবস্থার খোঁজ খবর নিতে এসেছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তারা কাগজ পত্র নিয়ে গেলো। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানোর কথাও তারা আমাদের জানালেন।

শুক্রবার (১০ মে) সকালে এটিএম শামসুজ্জামানের বর্তমান অবস্থা দেখতে গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত আজগর আলী হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এটিএম শামসুজ্জামানের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে ডা. সামন্ত লাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এটিএম শামসুজ্জামানকে উন্নত চিকিৎসা কীভাবে দেয়া যায় সে বিষয়েই আজকে কথা হলো। তাঁর অবস্থা আগের মতোই, অপরিবর্তিত।

চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো কিছুই ফাইনাল নয়। প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে দেশের বাইরে আছেন, তিনি এলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে তাদের কাগজ পত্র রেডি করা হচ্ছে।

গত ২৬ এপ্রিল রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এটিএম শামসুজ্জামান। মল-মূত্র বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ওইদিন রাত এগারোটার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে। তারপর দিন দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এটিএম শামসুজ্জামানকে। এরপর অবস্থার আরো অবনতি হলে ৩০ এপ্রিল থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে।

ষাটের দশকের শুরুতে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন ‘জলছবি’ ছবিতে। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও খল অভিনেতা হিসেবেই জনপ্রিয়তা পান এটিএম।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মাঝেমধ্যেই শখের বশে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘আলফা’। ২৬ এপ্রিল ছবিটি দেশের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।